গত বছর সমুদ্র পরিবহন খাতে যে আকাচুম্বী ফ্রেইট রেট বা পরিবহন ভাড়া ছিল, তা এখন অনেকটাই নি¤œমুখী। এদিকে এ খাতে আগামী দুই বছরে দুই শতাধিক নতুন কনটেইনার জাহাজ যুক্ত হবে। সবকিছু মিলিয়ে এশিয়া-আমেরিকা রুটে পণ্য পরিবহন ব্যয় আরও কমবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক বহরে মোট ২৩ লাখ ৪০ হাজার টিইইউ সক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ যুক্ত হবে। ২০২৪ সালে যুক্ত হবে আরও ২৮ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ।
বৈশ্বিক কনটেইনার বুকিং প্লাটফর্ম ফ্রেইটোসের তথ্য অনুসারে, গত সপ্তাহে এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ২০ ফুট কনটেইনার পরিবহনের ভাড়া ২ হাজার ৪৭৯ ডলারে নেমেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৭ শতাংশ কম।
করোনা প্রতিরোধী বিধিনিষেধ শিথিলের পর বিশ্বজুড়ে ভোক্তা চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কনটেইনার পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যায়। ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে চীনে লকডাউন শিথিলের পর দেশটির রপ্তানিও বেড়ে যায়। এদিকে বিশ্বের প্রধান প্রধান বন্দরগুলোয় কনটেইনার ঘাটতি রপ্তানিকারকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দ্রুত পণ্য সরবরাহ করার জন্য তারা কয়েক গুণ বেশি ব্যয় করতেও আগ্রহী ছিল। সব মিলিয়ে শিপিং ব্যয় রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত হয়।
তবে এখন ভোক্তাব্যয় পড়তির দিকে। ক্রেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরে বিলাসবহুল পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে উৎসবের মৌসুমেও পশ্চিমা দেশগুলোয় খুচরা পণ্যের চাহিদা ও আমদানি দুটোই কমেছে। এদিকে এশিয়ার কারখানাগুলোও পরিস্থিতি বিবেচনায় পণ্য উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে পণ্য পরিবহনের চাপও কমে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শিপিং রেট এরই মধ্যে গত বছরের চেয়ে অনেকটা কমেছে। সামনের দিনগুলোয় তা আরও কমতে যাচ্ছে। নতুন জাহাজ সরবরাহ এক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।