কপ২৭ সম্মেলনে কিছু আশার আলো দেখেছে সমুদ্র খাত

মিশরের শারম এল-শেখে সম্প্রতি শেষ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোর ২৭তম সম্মেলন বা কপ-২৭। দুই সপ্তাহের এই সম্মেলনে সমুদ্রবিষয়ক কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত পরিকল্পনায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের জাতীয় জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রায় সমুদ্রভিত্তিক সুষ্ঠু পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে।

এবারের সম্মেলন থেকে ছয় দফার শারম এল-শেখ ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যানের ঘোষণা এসেছে। অবশ্য এই ঘোষণা বেশিরভাগ জলবায়ু বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। পরিকল্পনাটিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার প্রতিশ্রæতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বটে, তবে ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বনমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের নির্দেশনা নেই এতে।

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, তা প্রশমনের লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট তহবিল গড়ে তোলার বিষয়ে অনেক বছর ধরে আলোচনা ও দর কষাকষি চলে আসছিল উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে। কপ২৭ সম্মেলনে অবশেষে এই বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছে দেশগুলো।

এবারের সম্মেলনে সমুদ্র খাত আশাব্যঞ্জক গুরুত্ব পেয়েছে। চ’ড়ান্ত পরিকল্পনায় সাগর-মাহাগরের পরিবেশগত ও বাস্তুতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা রক্ষার গুরুত্বের বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি বছর আরও শক্তিশালীভাবে ওশান-ক্লাইমেট ডায়ালগ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্মেলনে একটি ওশান প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়, যেখানে সাগর-সংশ্লিষ্ট তিন শতাধিক ইভেন্টের মাধ্যমে বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থায় সাগর-মহাসাগরের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয়।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সম্মেলনে কিছু উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। নিঃসরণমুক্ত সুনীল অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রয়াসের অংশ হিসেবে ২০৩০ সাল নাগাদ অন্তত ৫০ লাখ টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ও ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে দশটি শিপিং অপারেটরম ও গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া গভীর সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনকে গতিশীল করতে গ্লোবাল অফশোর উইন্ড অ্যালায়েন্সে যোগ দিয়েছে বেলজিয়াম, কলম্বিয়া, জার্মানি, ইসরায়েল, জাপান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। কপ২৬ সম্মেলনে এই অ্যালায়েন্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

এবারের সম্মেলনে ব্লু কার্বন ইকোসিস্টেমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ দেড় কোটি হেক্টর শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চলের সুরক্ষায় ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে ব-দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোয় স্বল্প ও মধ্যম মেয়াদে টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় স্থাপনে চ্যাম্পিয়ন গ্রæপ ফর ডেল্টাস অ্যান্ড কোস্টাল জোনস নামে একটি গ্রুপ গড়ে তুলেছে নেদারল্যান্ডস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here