নবায়নযোগ্য শক্তি খাতকে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মোকবিলা করতে হচ্ছে। যেমন বিভিন্ন দেশে অফশোর উইন্ড ফার্ম স্থাপনের অনুমোদন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতিও এই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন হতাশার বার্তাই দিচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশগুলো গভীর সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, কেবল তিনটি দেশ সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে।
মিশরের শারম এল-শেখে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ২৭ চলাকালে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে রিনিউয়েবলস কনসাল্টিং গ্রুপ (আরসিজি)। এতে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ দেশই ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না। কেউ কেউ বেশি পরিমাণে পিছিয়ে থাকবে, কেউ আবার পুরোপুরি। এই যে দেশগুলো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ থেকে ছিটকে পড়ছে, তার বড় কারণ হলো অনুমোদন পর্যালোচনার দীর্ঘসূত্রতা।
২০৩০ সাল নাগাদ অফশোর খাতে ৩০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের অগ্রগতি প্রায় শূন্য। আগামী আট বছরেও প্রকল্পগুলো যে খুব একটা গতি পাবে, সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এই বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৫টি দেশ ২০৩০ সালের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। কেবল পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ডেনমার্ক সঠিক ট্র্যাকে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বিশ্বে ২০৩০ সাল নাগাদ গভীর সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে হবে অন্তত ২৭০ গিগাওয়াট।