মেরিটাইম শিল্পে বাণিজ্যিকভাবে ৯০ হাজারের বেশি জাহাজ পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজ যেমন আছে, একইভাবে আছে অফশোর সহায়ক জাহাজও। ডিজিটাইজেশন, অটোমেশন এবং স্মার্ট টেকনোলজি এ খাতের দক্ষতা বাড়াচ্ছে। আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতির কার্যক্রমকেও বদলে দিচ্ছে।
এই উন্নতি একই সাথে সাইবার চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করছে। এমন অনেক অনবোর্ড ওটি সিস্টেম আছে, যেগুলো ২৫-৩০ বছর আগে জাহাজটি নির্মাণের সময়ই স্থাপন করা। এর ফলে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ এখন বাতিল হয়ে যাওয়া সফটওয়্যারে চলছে। এর ফলে সাইবার হামলাকারীদের জাহাজটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে সুবিধা হচ্ছে।
বিশেষ করে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ এবং ওটি ইক্যুপমেন্টে ক্ষতিকর প্রবেশের ঝুঁকি সবসময়ের। এর ফলে হামলাকারীরা নেভিগেশনাল কন্ট্রোল হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। এর অর্থ হলো তারা এমন সিস্টেম ব্যবহার করবে যার সাথে জাহাজ পরিচালনকারীরা পরিচিত নন। এই ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, মারাত্মক ও কার্যকর সাইবার হামলা হয়তো সামনে অপেক্ষা করছে।
২০২১ সালের মার্চে সুয়েজ ক্যানেলের ঘটনা মেরিটাইম পরিবহন ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্নের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। এই ঘটনার কেন্দ্রে ছিল ২ লাখ ২০ হাজার টনের প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জাহাজ এভার গিভেন। সুয়েজ ক্যানেলে প্রবেশের সময় শক্তিশালী বাতাসের কারণে গতিপথ থেকে ছিটকে যায় জাহাজটি। এরপর নৌপথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং জাহাজ চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।
এটা সাইবার হামলার ঘটনা ছিল না ঠিক, কিন্তু এটা দেখিয়ে দিয়েছে যে, বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শিপিং রুটে একটা জাহাজ হামলাকারীরা গ্রাউন্ডে করতে পারলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পুঁজিবাজারে এর কী প্রভাব পড়েত পারে। এটা জাহাজকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে হামলাকারীদের উৎসাহ হিসেবে কাজ করছে।