ভূমধ্যসাগরকে কার্বন নিয়ন্ত্রণ এলাকার পক্ষে সবুজসংকেত

ভূমধ্যসাগরে কার্বন নিয়ন্ত্রণ এলাকা (ইসিএ) সফল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের পর থেকে ভূমধ্যসাগরের যেকোনো স্থানে জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে দশমিক ১ শতাংশ সালফারযুক্ত জ্বালানি তেল ব্যবহার করতে হবে, যা এই অঞ্চলে বায়ুদূষণ কমিয়ে আনবে।

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) লন্ডন সদর দপ্তরে ১২ থেকে ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংস্থার মেরিন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন কমিটির (এমইপিসি ৭৯) ৭৯তম সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। গ্রিনহাউস গ্যাস বিধিমালা বর্ধিত আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় সভায়। এমইপিসি ৮০-তে গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ে আরও আলোচনা ও বিতর্ক হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ওই সভায় আইএমও সদস্য দেশগুলো পরিমার্জিত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস নিয়ে আবারও আলোচনা করবে।

বেশকিছু এমন ধরনের প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যা আইএমওকে আরও উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে চালিত করবে। ২০৫০ সালের মধ্যেই শূন্য কার্বন নিঃসরনের লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, সে ব্যাপারে আইএমও যেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, সেই সুপারিশ করেছে সদস্যগুলো। উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্যমাত্রার কথা যেসব সদস্য দেশ বলছে, তাদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃস্থানীয় সদস্য দেশ, মার্শাল আইল্যান্ড ও সলোমন আইল্যান্ড।

সংশোধিত ও উচ্চাভিলাষী কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনায় আইএমওর ধীরগতিতে স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটের প্রতিনিধিরা ক্ষুব্ধ বলে মনে হয়েছে। কারণ সমুদ্রে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এসব দ্বীপরাষ্ট্র।

বৈঠকে স্বেচ্ছায় গ্রিনহাউস গ্যাস-সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব গ্রহণে সম্মত হয়েছে আইএমওর সদস্য দেশগুলো। প্রথমটি হলো কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে বন্দর ও শিপিং খাতের মধ্যে সহযোগিতার আশ্বাস। এই প্রস্তাবের আওতায় গ্রিন করিডোর এবং এ ধরনের ধারণার ব্যাপারে সহযোগিতার ব্যাপারে সম্মতি মিলেছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে জাহাজ থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোকে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং স্বেচ্ছায় তা জমা দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

আইএমও মহাসচিব কিটাক লিম সমাপনী বক্তৃতায় বলেন, এই অগ্রগতিকে আমি স্বাগত জানায়। অগ্রগতি আমরা ধরে রেখেছি এবং আগামী বছর এমইপিসি ৮০-তে একটি উচ্চাকাক্সক্ষী ও ন্যায্য সংশোধিত আইএমও গ্রিনহাউস গ্যাস কৌশল দিতে যাচ্ছি।

আইএমরও গ্রিনহাউস গ্যাস কৌশল আশাবাদী করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্ল্ড শিপিং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন বাটলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here