সরকার তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষতা অর্জন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। গতবছর ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে, ২০৩০ সালে যা ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। বাংলাদেশ এখন চাহিদা মোতাবেক যে কোনও পরিমাণ পণ্য যথা সময়ে সরবরাহ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। আমরা রপ্তানি বাণিজ্যে বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা তৈরি পোশাক ব্র্যান্ড প্রাইমার্ক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মন্ত্রী এই কথা বলেন। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক হয়। প্রাইমার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাউল মার্চেন্টের নেতৃত্বে দলটি বাংলাদেশ সফর করছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৬৫ ভাগই নারী শ্রমিক বলে জানান টিপু মুনশি। তিনি বলেন, প্রাইমার্ক আমাদের বড় ক্রেতা। বিশ্বখ্যাত এ পোশাক ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি তৈরি পোশাক কিনবে বলে বিশ্বাস করি। একইসঙ্গে এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে শিল্পের সঙ্গে জড়িত জনবলকে উৎসাহ দিতে তৈরি পোশাকের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে  বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশন করবে। তখন বিভিন্ন দেশ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেতে পিটিএ বা এফটিএ এর মতো বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আমরা কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেন, প্রতিযোগিতা মূলক বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিগত যে কোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে বিশ্বমানের ও আধুনিক তৈরি পোশাক তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করতে সক্ষম। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা ক্রয় আদেশ বাতিল করার কারণে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। সরকারের সহযোগিতায় তৈরি পোশাক শিল্পসহ দেশের অর্থনীতির চাকা চলমান ছিল। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ এখন যে কোনও পরিমান পণ্য সরবরাহ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

প্রাইমার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাউল মার্চেন্ট এ সময় বলেন, বাংলাদেশ বাণিজ্য ক্ষেত্রে আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক সেক্টরে অনেক উন্নতি করেছে। গ্রিন ফ্যাক্টরিতে কর্মবান্ধব পরিবেশে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদন করছে। শিল্প ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বেশি আকর্ষণীয় করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমাদের কাছে খুবই প্রিয়।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন, এবিএফ এর পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি পাউল লিস্টার, এবিএফ এর গ্রুপ করপোরেট রিসপনসেবলিটি ডিরেক্টর কাথারিন স্টিওয়ার্ট, ইকোলক বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান জুয়ান চাপারো, প্রাইমার্কের হেড অব পলিসি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ইম্মা অরমন্ড,  প্রাইমার্কের হেড অফ সোর্সিং মাদিউ আরহোডস এবং বেক্সিমকো বাংলাদেশ লিমিটেডের গ্রুপের পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ নাভেদ হোসেইন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here