বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে ভারতীয় মালিকানাধীন প্রমোদতরী গঙ্গা বিলাস। শনিবার বেলা ২টায় মোংলা বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে ভিড়েছে বিলাসবহুল পাঁচ তারকা মানের নৌযানটি। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমানসহ পদস্থ কর্মকর্তারা জাহাজের পর্যটকদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। পরে আগত অতিথিদের সম্মানে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন খালিদ মাহামুদ চৌধুরী, প্রণয় ভার্মা ও রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী। পরে অতিথিদের সম্মানে গঙ্গা বিলাসের আদলে তৈরি করা বিশালাকৃতির এক কেক কাটেন প্রতিমন্ত্রী।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ফুলের শুভেচ্ছা, দেশীয় ফল ও পিঠায় আপ্যায়ন এবং কেক কাটার অনুষ্ঠান নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন বিদেশী পর্যটকরা। অভিভূত হয়েছেন সুইডেন, ভারত ও জার্মানির পর্যটকরা। জাহাজটি ভারতের পাঁচটি রাজ্য এবং গঙ্গা, যমুনা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ ২৭টি নদ-নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ১৪ দিন থাকার কথা রয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ পরিদর্শন করবেন পর্যটকরা। পরে নৌপথে বরিশাল হয়ে ঢাকার মেঘনা ঘাটে অবস্থান করে সোনারগাঁ ও ঢাকায় ভ্রমণ করবেন তারা।
খালিদ মাহামুদ চৌধুরী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব অনেক পুরনো। এটি একটি বিশ্বস্ত বন্ধুত্বের নিদর্শন। গঙ্গা বিলাসের এ ভ্রমণ দুই দেশের বন্ধুত্বকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি ছড়িয়ে পড়বে পশ্চিমা দেশগুলোয়। কারণ এ প্রমোদতরীতে যারা রয়েছেন তারা সবাই বিদেশী। এছাড়া এ ভ্রমণের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বের গল্প ছড়িয়ে পড়বে দেশের প্রতিটি এলাকায়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এ নৌ ভ্রমণ।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, সম্প্রতি মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, গঙ্গা বিলাস রিভার ক্রুজের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণকে জানার এক অনন্য প্রচেষ্টা। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো দেখা যাবে। এ স্থানগুলোকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে নিয়ে আসবে এবং পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় অর্থনীতিকে উপকৃত করবে। তবে এটা শুধু দুই দেশের পর্যটনের সম্ভাবনা উন্মোচন করার উপায় নয়, মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি নতুন উপায়ও। এছাড়া যে নদীগুলো ঐতিহ্যগতভাবে ভারত ও বাংলাদেশকে যুক্ত করেছে গঙ্গা বিলাস সেই সংযোগকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবে।’
প্রমোদতরীটি ১৩ জানুয়ারি ভারতের বেনারস রাজ্য থেকে ছেড়ে আসে। ৫১ দিনে সফর শেষ করবে এটি।