বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের তাগিদ

বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সাদৃশ্য ও সম্পর্ককে কাজে লাগাতে পারলে দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। এক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। শনিবার চট্টগ্রামে আয়োজিত দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ভারতীয় বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুবির চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যবিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে।

চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুদেশের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। সে জন্য আমাদের সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। আমাদের ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) পলিসি অত্যন্ত লাভজনক। ত্রিপুরাকে ঘিরে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো এগিয়ে নিতে পারলে উভয় দেশই লাভবান হবে।’ দুদেশের মধ্যে অনেক বাণিজ্য বৈষম্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এ বৈষম্য দূর করা সম্ভব। তিনি ভারতের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বৃহৎ শিল্পাঞ্চল মিরসরাই শিল্পনগরে বিনিয়োগ ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানান।

বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুবির চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের কালচার একই রকম, যা যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে কালচার মিল না থাকলে যৌথ বিনিয়োগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের গেটওয়ে না, এটা গেটওয়ে অব ইস্ট। তার সঙ্গে ভারতের সেভেন সিস্টারসসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোকে যুক্ত করে ইস্টার্ন রিজিওন কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি করে উভয় দেশ লাভবান হতে পারে’

চিটাগাং চেম্বার এবং বেঙ্গল চেম্বার যৌথভাবে একটা ইস্টার্ন রিজিয়ন নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করতে পারে উল্লেখ করে সুবির চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী। বাংলাদেশ এবং ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নদীর ধারে এবং সাগর তীরকেন্দ্রিক। তাই রিভার ক্রুজ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, লেদার প্রসেসিং, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here