অ্যান্টার্কটিকে সমুদ্রপৃষ্ঠে ভাসমান বরফের আচ্ছাদন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে অ্যান্টার্কটিক সাগরে ভাসমান বরফের পরিমাণ ছিল সাড়ে আট লাখ বর্গমাইল, যা চল্লিশ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
জার্মানির আলফ্রেড ওয়েগনার ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ক্রিস্টিয়ান হাস জানান, গ্রীষ্মকাল এখনো পুরোপুরি অতিবাহিত না হওয়ায় আগামী কিছুদিন বরফ গলা অব্যাহত থাকবে। এমতাবস্থায় এই রেকর্ড কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা এখনই বলা মুশকিল। বিগত ছয় বছরে অ্যান্টার্কটিকের বরফ উল্লেখযোগ্য হারে গলেছে। অন্যদিকে এর আগের পঁয়ত্রিশ বছরে এই অঞ্চলের ভাসমান বরফের পরিমাণ তেমন একটা কমেনি বললেই চলে।
সমুদ্রে ভেসে থাকা বরফ গলে গেলে পানির স্তরে তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে মৌসুমি এসব বরফ অ্যান্টার্কটিকের বিশাল বিশাল হিমবাহগুলোর ওপর একটা সুরক্ষা আচ্ছাদন প্রদান করে। তাই সুরক্ষা স্তর গলে গেলে হিমবাহগুলো উত্তাল সাগরের স্রোত এবং তীব্র ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়। যার ফলে অতি দ্রুত হিমবাহগুলো ভেঙে যায় বা ক্ষয় হয়ে যায়।
পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকের উপক‚লরেখা বরাবর বিস্তীর্ণ এলাকার বরফ সম্পূর্ণ গলে গেছে। অত্র এলাকার বেলিংশাউসেন সাগর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বরফমুক্ত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে অ্যান্টার্কটিক নিয়ে গবেষণা করছেন প্রফেসর কারস্টেন গোহল। তিনি বলেন, ‘আয়তনে জার্মানির সমান বড় একটি কন্টিনেন্টাল শেলফ বর্তমানে একবারে বরফশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এই অঞ্চলে এত তীব্র বরফশূন্যতা এর আগে কখনো পরিলক্ষিত হয়নি।’ গবেষকদের মতে, অ্যান্টার্কটিকের পশ্চিম এবং পূর্ব উপকূলে বায়ুর তাপমাত্রা গড় তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ায় এবং দক্ষিণ মহাসাগরের গভীর জলে সৃষ্ট চক্রাকার ঘূর্ণির কারণে ভাসমান বরফের স্তরগুলো অতি দ্রুত গলে গেছে।