২০২৩ সাল হবে সমুদ্র পরিবহন খাতের বৈপরীত্যে ভরা বছর: প্রতিবেদন

ভূরাজনৈতিক দোলাচল, মূল্যস্ফীতি এবং ডিকার্বনাইজেশনের চলমান প্রচেষ্টা গত বছর সমুদ্র পরিবহন খাতের বিভিন্ন পক্ষকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। চলতি বছরও এ ধারা অব্যাহত থাকায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার, ভোক্তাদের ক্রয়ের ধরন পরিবর্তন এবং ব্যবসায়ীদের শিপিং খরচ কমানোসহ বেশকিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে সমুদ্র পরিবহন খাত। বিআরএস এবং শিপস্টেশনের পৃথক দুটি রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি শিপিং এবং শিপবিল্ডিং মার্কেটের ওপর বার্ষিক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে বিআরএস। পর্যালোচনা অনুযায়ী, সমুদ্র পরিবহন খাতের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বৈপরীত্য থাকলেও ভারী জ্বালানি তেল বা হেভি ফুয়েল অয়েলের (এইচএফও) ব্যবহার বন্ধে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছবে। ‘নোংরা’ জ্বালানি হিসেবে পরিচিত এইচএফও পোড়ালে সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ভারী ধাতু, ব্ল্যাক কার্বনের মতো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান নির্গত হয়। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) কঠোর পরিবেশনীতি না থাকায় সমুদ্র পরিবহন খাতে সহজলভ্য ও সস্তা জ্বালানি হিসেবে এইচএফও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

২০৩০ (৪০%) এবং ২০৫০ (৭০%) সাল নাগাদ কার্বনের তীব্রতা কমানোর লক্ষ্যে খাতসংশ্লিষ্ট সবাই বর্তমানে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছর এইচএফও এর ব্যবহার আগের চেয়ে কমবে এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলএনজি বা মিথানল ব্যবহার করা হবে। সেসঙ্গে নতুন জাহাজগুলোতে (২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী এক হাজারের বেশি জাহাজ) পরিবেশবান্ধব ডুয়েল ফুয়েল সিস্টেম সংযুক্ত থাকবে। বিআরএসের মতে, কঠোর পরিবেশ নীতি প্রণয়ন এবং কার্বন ট্যাক্স চালু করলে সমুদ্র পরিবহনে কার্বনের ব্যবহার দ্রুত হ্রাস পাবে।

সম্প্রতি ‘প্রোটেক্ট ইউর গ্রোথ স্ট্র্যাটেজি : দ্য ২০২৩ কনজিউমার অ্যান্ড মার্চেন্ট বেঞ্চমার্ক রিপোর্ট’ প্রকাশ করে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্লাউড-বেসড ই-কমার্স শিপিং সলিউশন শিপস্টেশন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোক্তারা মূল্য সচেতন হওয়ায় চলতি বছরের ক্রয় সিদ্ধান্তে সেটা ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। মূল্যস্ফীতির কারণে চলতি বছর বিক্রয় বাবদ ২১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করা গেলেও বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে না।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৬% মার্কিন ভোক্তার মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে তারা কেনাকাটার ধরনে পরিবর্তন আনবে। এছাড়া অনলাইননির্ভর কেনাকাটা, ফ্রি হোম ডেলিভারি, ফ্রি রিটার্ন পলিসির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন ভোক্তারা। অন্যদিকে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে ৭২% মার্কিন ব্যবসায়ী ব্যয় কমানোর এবং কাজের গতি বাড়াতে ৩০% ব্যবসায়ী গুদাম অটোমেশনের পরিকল্পনা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here