সমুদ্র সুরক্ষায় ঐতিহাসিক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে জাতিসংঘ

দীর্ঘ দেড় দশকের আলোচনা শেষে সাগর-মহাসাগর সুরক্ষায় প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ‘হাই সিজ ট্রিটি’র আওতায় ২০৩০ সাল নাগাদ পৃথিবীর ৩০ শতাংশ মহাসাগর সংরক্ষিত ঘোষণা করা হবে।

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সমুদ্র সুরক্ষা চুক্তি বিষয়ক চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সফল আলোচনা শেষে সম্মেলনের সভাপতি রেনা লি বলেন, ‘অবশেষে আমাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হলো’। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক জীববৈচ্যিত্র সুরক্ষায় ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার আলোচনায় বসেন জাতিসংঘের সদস্যদেশের প্রতিনিধিগণ।

গত বছর আগস্টে কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই পঞ্চম ধাপের আলোচনা সমাপ্ত হয়। যে কারণে সদস্য দেশগুলোর ঐকম্যতে পৌঁছানোকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। গ্রিন পিসের পরামর্শক লরা মেলার বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। প্রতিনিধিদের সফল আলোচনা প্রমাণ করে যে, ভেদাভেদে ভরা এই পৃথিবীতে ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ভুলে প্রকৃতির রক্ষণাবেক্ষণে মানুষের প্রচেষ্টাই জয়ী হতে পারে।’

দুই সপ্তাহের প্রগাঢ় আলোচনা শেষে মার্চের ৩-৪ তারিখে টানা ৩৮ ঘণ্টা বৈঠক করেন অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে একটি চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছান তারা। চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় প্রতিনিধিদের সাধুবাদ জানান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আলোচনায় কী কী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা এখনো লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়নি। লরা জানান, আইনজীবীরা চুক্তিটি যাচাই-বাছাই করে দেখবেন। জাতিসংঘের ছয়টি দাপ্তরিক ভাষায় অনুবাদের পর চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হওয়ার পর চুক্তিটি পুনরালোচনার তেমন কোনো সুযোগ থাকবে না বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, উপকূল থেকে ৩২০ কিলোমিটার বা ২০০ মাইল-পরবর্তী সমুদ্রকে হাই সিজ বলা হয়। বিশ্বের মহাসাগরের ৬০ শতাংশ এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় অর্ধেক হাই সির অন্তর্ভুক্ত। বিশাল এই এলাকা কোনো দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের আওতাভুক্ত না হওয়ায় সমুদ্রের এই অংশে বিশ্বের সব দেশের মাছ শিকার, জাহাজ চলাচল এবং গবেষণার অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে যেহেতু আন্তর্জাতিক জলসীমার কোনো মালিকানা নেই, সেহেতু এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়ভারও কোনো একক দেশের ওপর বর্তায় না। যে কারণে বিস্তৃত হাই সিজ এলাকার মাত্র ১.২ শতাংশ সুরক্ষিত আছে। এমতাবস্থায়, নতুন চুক্তি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক জীব এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here