আগামী ছয় মাস দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ইতিবাচক ধারায় ফিরবে বলে মনে করছে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)। ‘বিজনেস কনফিডেন্স সার্ভে রিপোর্ট ২০২২-২৩’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় এমনটা জানায় সংস্থাটি। রবিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সমীক্ষার তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২২ সালে সামগ্রিক বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স (বিসিআই) দাঁড়ায় ৭৪ দশমিক ৪ পয়েন্টে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে ব্যবসা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ সময় উৎপাদন খাতের ক্রয়াদেশ, সেবা খাতে চাহিদা, বিক্রয় মূল্য ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়বে। যদিও উৎপাদন ব্যয় নিয়ে ব্যবসায়ীরা ‘নিম্ন আস্থা’ (হতাশা) প্রকাশ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংক্রান্ত ব্যয়ের বোঝা কমানোর দাবি জানিয়েছে বিল্ড।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ সমীক্ষা চালানো হয়। এতে ৫৬৭ জন উদ্যোক্তার মতামত নেওয়া হয়েছে। সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল গত বছরের মার্চ-আগস্ট পর্যন্ত ব্যবসা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়া। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি প্রশমনের প্রস্তুতি নেয়ার ও পরিকল্পনা করার সক্ষমতা প্রদান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এর পরও বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স (বিসিআই) আমাদের ব্যবসায় পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত প্রদর্শন করায় আমরা আনন্দিত। সংকট মোকাবেলা ও উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, এ বছরের বিজনেস কনফিডেন্স সার্ভেতে সাতটি কম্পোনেন্টের মধ্যে ছয়টি কম্পোনেন্টেই উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এ ছয়টি কম্পোনেন্ট হলো কর্মসংস্থান, ক্রয়াদেশ, সেবার চাহিদা, ব্যবসায় কার্যক্রম, বিক্রয় মূল্য ও বিনিয়োগ। শুধু ব্যবসায় ব্যয় সম্পর্কিত মতামতের ক্ষেত্রে নেতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এ গবেষণায় ব্যবহৃত ডিফিউশন ইনডেক্সে স্টাডি রেঞ্জ ধরা হয়েছে শূন্য থেকে ১০০ এবং মধ্যবিন্দু ধরা হয়েছে ৫০। প্রাপ্ত ফলাফল ৫০-এর কম হলে সংকোচন বা নেতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং ৫০-এর বেশি হলে সম্প্রসারণ বা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা তিনভাবে বিজনেস কনফিডেন্স দেখেছি। একটা হচ্ছে ওভারঅল বিজনেস কনফিডেন্স, আরেকটা হচ্ছে ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস কনফিডেন্স এবং সার্ভিস সেক্টরের বিজনেস কনফিডেন্স। আমাদের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। তারা খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন। যেখানে আমাদের উৎপাদন খাতের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক, সেখানে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগজনক।