২০৫০ সাল নাগাদ ডিকার্বনাইজেশন নিশ্চিত করতে সমুদ্র পরিবহন শিল্প একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্লোবাল মেরিটাইম ফোরামের (জিএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, চারটি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অপারেশনাল এফিসিয়েন্সি বা পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি করলে কার্বন ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি সমুদ্র পরিবহন শিল্পে বার্ষিক ৫০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব।
সমুদ্র পরিবহন শিল্পে কার্বন নির্গমন সম্পূর্ণরূপে কমাতে হলে জিরো-ইমিশন ফুয়েল (জেডইএফ) বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। বর্তমানে এসব জ্বালানি এবং প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী নয়। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং প্রযুক্তি সাশ্রয়ী হওয়ার আগে বিকল্প হিসেবে স্বল্পমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
জিএমএফের গবেষণা অনুযায়ী পদক্ষেপগুলো হলো, সুষ্ঠুভাবে পারফরম্যান্স ডেটার স্বচ্ছতা এবং মান নির্ধারণ, কাজের গতি এবং পরিমাণ বাড়াতে প্রচলিত কর্মপদ্ধতির মানোন্নয়ন এবং নতুন নতুন কর্মপদ্ধতি উদ্ভাবন, চুক্তিতে ভার্চুয়াল অ্যারাইভাল ক্লজের অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করা (অর্থাৎ কোনো কারণে ডিসচার্জ পোর্টে দেরি হলে জাহাজের গতিতে সামঞ্জস্য এনে নির্ধারিত সময়ে ডিসচার্জ বা লোডিং পোর্টে প্রবেশের অনুমতি থাকতে হবে) এবং সবশেষে নতুন ধরনের ব্যবসা চালু করতে নিয়ম-নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে সমুদ্র পরিবহন শিল্পের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি।
এই চারটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি করলে জাহাজের জ্বালানি, খরচ এবং সময় বাঁচনো যাবে। যার ফলে বছরে জাহাজ এবং নৌবহরের জ্বালানি খরচের ২০% পর্যন্ত অর্থাৎ বর্তমান বাজারমূল্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার কমানো সম্ভব। সেসঙ্গে জাহাজ শিল্পে বার্ষিক ২০০ মিলিয়ন টন কার্বন নির্গমন হ্রাস পাবে।