উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি কার্যদক্ষতা ৪০% বাড়াতে হবে: ইউএমএএস

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে রূপরেখা দিয়েছে জাতিসংঘের ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি), সেটি বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহন খাতকে জ্বালানি কার্যদক্ষতায় আরও উন্নয়ন সাধন করতে হবে। সমুদ্র শিল্পবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি মেরিটাইম অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস (ইউএমএএস) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মেরিন এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন কমিটির (এমইপিসি) ৮০তম অধিবেশন। এতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে আইএমওর সংশোধিত কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে ইউএমএএস জানিয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে আইএমওর কিছু সদস্য রাষ্ট্র এরই মধ্যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আইএমওর কর্মকৌশলেও এসব লক্ষ্যমাত্রাকে বিবেচনায় নিতে হবে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে হলে ২০৩০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৪৩ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে। এছাড়া ২০০৮ সালকে ভিত্তি ধরে নিঃসরণ ২০৩০ সাল নাগাদ ৩৭ শতাংশ ও ২০৪০ সাল নাগাদ ৯৬ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগুচ্ছে আইএমওর কিছু সদস্য রাষ্ট্র।

সমুদ্র শিল্পে নিঃসরণ কমানোর উদ্দেশ্যে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইউএমএএস বলছে, কেবল নতুন নতুন পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার শুরু করলেই চলবে না, বরং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এর পাশাপাশি জ্বালানি কার্যদক্ষতা ২০১৮ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ অথবা ২০০৮ সালের গড় মানের চেয়ে ৫৫-৬০ শতাংশ বাড়াতে হবে। কার্যদক্ষতা বাড়ানোর এই হার ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যকার প্রবৃদ্ধির হারের প্রায় কাছাকাছি। সে সময়ে জ্বালানি কার্যদক্ষতা প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছিল।

ইউএমএএস বলছে, বৈশ্বিক জাহাজ বহরের জ্বালানি কার্যদক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে ভূমিকা রাখতে হবে আইএমওকে। প্রথমত, তাদের আগামী জুলাইয়ে এমইপিসির অধিবেশনে ২০৩০ সালের জন্য বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করতে হবে। এরপর কার্বন ইনটেনসিটি ইন্ডিকেটর (সিআইআই), এনার্জি এফিশিয়েন্সি এক্সিস্টিং শিপ ইনডেক্সের (ইইএক্সআই) মতো স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপগুলো পুনঃপর্যালোচনা করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো ২০২৬ সালে পুনরায় পর্যালোচনার দিনক্ষণ ঠিক করে রেখেছে আইএমও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here