প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের ওরিয়েন্টাল মিন্দোরো প্রদেশের নাউজান শহরের নিকটবর্তী উপকূলে ডুবে যায় প্রিন্সেস এম্প্রেস নামের একটি ট্যাংকার। এই ঘটনায় দেশটির চারটি প্রদেশের জলসীমায় তেল ছড়িয়ে পড়ে। ট্যাংকারডুবির ঘটনাটিকে একটি ‘অপরাধ’ হিসেবে দাবি করে এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ। তারা ট্যাংকারটির অপারেটরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, জাহাজটির মোট পাঁচটি কার্গো ট্যাংকের মধ্যে তিনটি ট্যাংক থেকে তেল লিক করে সাগরে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে উল্লিখিত চারটি প্রদেশের উপকূলীয় গ্রামগুলো অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব গ্রামের মানুষজন তাদের জীবিকার জন্য প্রায় পুরোপুরি মৎস্য আহরণ ও পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। প্রিন্সেস এম্প্রেস দুর্ঘটনার পর এসব অঞ্চলে মাছ ধরার ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ রয়েছে।
ফিলিপাইনের মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি (মেরিনা) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ পারমিট ছিল না প্রিন্সেস এম্প্রেসের। সর্বশেষ যাত্রার আগে ট্যাংকারটির ক্রুরা কোস্টগার্ডের কাছে যেসব কাগজপত্র দাখিল করেছে, সেগুলোর যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মেরিনা। এছাড়া ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের অভিযোগ, অপারেটর আরডিসি রিইল্ড মেরিন সার্ভিসেস প্রডাক্ট ট্যাংকারটি নবনির্মিত বলে দাবি করলেও এটি আসলে তেমনটি ছিল না। বরং একটি পরিত্যক্ত জাহাজকে সংস্কারের মাধ্যমে এটি পুনঃনির্মাণ করা হয়েছিল। আরডিসি পরে সেটিকে কিনে নেয় এবং প্রডাক্ট ট্যাংকারে রূপান্তর করে।
মেরিনা এরই মধ্যে আরডিসির অপারেটিং পারমিট বাতিল করেছে এবং তাদের বহরে থাকা অন্য তিনটি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।