জাহাজ পরিচালনা ও দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত আন্তর্জাতিক চুক্তি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রিভেনশন অব পলিউশন ফ্রম শিপস (মারপোল) লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের আদালতে নরওয়ের একটি শিপিং লাইনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় এলপিজি ও পেট্রোকেমিক্যাল গ্যাস পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান সোলভ্যাংয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ক্লিপার শিপিংকে প্রথম দফার শুনানির জন্য ১৮ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মারপোল চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে প্রতি বছর আরও অনেক মামলা হলেও বিশেষ কারণে এই মামলাটি উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বন্দরে ঘটেনি। দ্বিতীয়ত, যেভাবে ঘটনাটি সামনে এসেছে, সেটিও অভূতপূর্ব।
গত ৬ এপ্রিল ক্লিপার শিপিং ও এর জাহাজ ক্লিপার স্যাটার্নের বিরুদ্ধে হিউস্টন ডিভিশনের সাউদার্ন ডিসট্রিক্ট অব টেক্সাসের আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে মারপোল চুক্তির ব্যত্যয়ের জন্য জাহাজের প্রধান প্রকৌশলীকে সর্বোতভাবে দায়ী করা হয়েছে। অবশ্য সেই প্রকৌশলীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ক্লিপার স্যাটার্নের অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে মার্কিন কোস্ট গার্ডের রুটিন তদন্তের সময়। ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবরের সেই তদন্ত চলাকালে ক্লিপার স্যাটার্ন হিউস্টন বন্দরে অবস্থান করছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়, মারপোল অনুযায়ী একটি জাহাজকে সর্বদা অয়েল রেকর্ড বুক সংরক্ষণ করতে হবে, যেটিতে জাহাজের ওয়েস্ট অয়েল অপারেশন ও ডিসচার্জের বিষয়ে তথ্য থাকতে হবে। এই রেকর্ড বুক যেন নির্ভুল হয়, সেই দায়িত্ব ইঞ্জিন রুমের সিনিয়র অফিসার হিসেবে চিফ ইঞ্জিনিয়ারের ওপরই অর্পিত থাকে।
মার্কিন কোস্ট গার্ডের তদন্তে দেখা যায়, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগোর লোম উপকূলে নোঙ্গর করা অবস্থায় ক্লিপার স্যাটার্ন অবৈধভাবে তৈলাক্ত বর্জ্য ডিসচার্জ করেছে। কিন্তু তাদের অয়েল রেকর্ড বুকে কিছু তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি। অভিযোগপত্রে এটি উল্লেখ করা হয়নি যে, অবৈধ ডিসচার্জের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেউ ধরতে পেরেছে কিনা অথবা এ বিষয়ে কোনো তদন্ত চলমান রয়েছে কিনা। শুধু এটি জানানো হয়েছে যে, হিউস্টন বন্দরে মার্কিন কোস্ট গার্ডের রুটিন চেকআপের সময় অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়েছে।