নিউজিল্যান্ড ছেড়েছে গবাদি পশুবাহী শেষ জাহাজ

দুই বছর বন্ধ থাকবে রপ্তানি

দুই বছরের জন্য গবাদি পশু রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। যদিও এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে, তবে এই রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেল ২০ এপ্রিল থেকেই; গবাদি পশুবাহী সর্বশেষ জাহাজ দারিনের তিমারু বন্দর ছাড়ার মধ্য দিয়ে।

আন্দোলনকর্মীদের তীব্র সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে দুই বছরের জন্য গবাদি পশু রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার। পশু সুরক্ষাকর্মীদের দাবি, রপ্তানির জন্য জাহাজীকরণের সময় গবাদি পশুগুলোর সুরক্ষার বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের খবরে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কখনো কখনো অনুপযুক্ত জাহাজে করে গবাদি পশু পরিবহন করা হয়। মাঝেমধ্যে এসব জাহাজের ক্রু ও পশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়।

নিউজিল্যান্ডের ৩ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের শিল্পোৎপাদন-বহির্ভূত রপ্তানি খাতে গবাদি পশু রপ্তানির অবদান খুব বেশি নয়। ২০১৫ সালের পর থেকে এই হিস্যা মাত্র শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২২ সালে দেশটি মোট ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পশু রপ্তানি করেছে।

নিউজিল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী ড্যামিয়েন ও’কনর জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে পশুবাহী জাহাজ দারিন দেশটির সাউথ আইল্যান্ডের পূর্ব উপকূলীয় বন্দর তিমারু ত্যাগ করে। এর আগে ১৮ এপ্রিল জাহাজটি বন্দরে পৌঁছায়। দুবাইয়ের মিরা শিপিং পরিচালিত জাহাজটি পানামায় নিবন্ধিত। ৭ হাজার ২৫৮ ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার ২৯ বছরের পুরনো জাহাজটিতে সর্বোচ্চ সাত হাজার গবাদি পশু পরিবহন করা যায়। তিমারু ছাড়ার সময় এতে ৬ হাজার ৯০টি পশু ছিল। যদিও এর রপ্তানি অনুমোদন ছিল ৬ হাজার ২৫৩টির। আগামী ৯ মে চীনের হুয়াংহুয়ায় পৌঁছনোর কথা রয়েছে দারিনের।

দারিনের পর আর কোনো জাহাজকে রপ্তানিমুখী গবাদি পশু পরিবহনের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি বলে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ফলে দারিনই অন্তত আগামী দুই বছরের জন্য নিউজিল্যান্ডের বন্দর ছেড়ে আসা শেষ পশুবাহী জাহাজে পরিণত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here