উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের জলসীমায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন (ইঅ্যান্ডপি) লাইসেন্স প্রদানের সরকারি উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানানোর আইনি অনুমতি পেয়েছে গ্রিনপিস। সম্প্রতি লন্ডন হাই কোর্ট নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বৈশ্বিক ক্যাম্পেইনিং নেটওয়ার্কটিকে সরকারের নিলাম কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
উত্তর সাগরে প্রায় ১৩০টি নতুন ইঅ্যান্ডপি লাইসেন্স প্রদানের পরিকল্পনা করছে ব্রিটিশ সরকার। গ্রিনপিস প্রথম থেকেই এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে। গত বছরের ডিসেম্বরে তারা লন্ডন হাই কোর্টে একটি আর্জি দাখিল করে, যেন সরকারের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয় তাদের। যুক্তরাজ্যের আইন অনুসারে, সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করতে হলে উচ্চ আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়।
গভীর সমুদ্র তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের লাইসেন্স দেওয়ার আগে সরকারকে প্রকলাপগুলোর পরিবেশগত প্রভাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে-এমন শর্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে ব্রিটিশ আইনে। তবে গ্রিনপিসের দাবি, সরকার নতুন এই ১৩০টি ইঅ্যান্ডপি লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করেনি। এসব লিজ ব্লকে উত্তোলিত তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে যে কার্বন নিঃসরণ হবে, সেই বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে সরকারের পর্যালোচনায়। বরং এতে কেবল উৎপাদন পর্যায়ে নিঃসরণকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অথচ একটি অফশোর প্রকল্পে তেল ও গ্যাস উত্তোলন ও তা ব্যবহারের চক্রে মোট যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, তার মাত্র ২০ শতাংশ নিঃসৃত হয় উৎপাদন পর্যায়ে।
যুক্তরাজ্যে গ্রিনপিসের ক্লাইমেট ক্যাম্পেইনের প্রধান ফিলিপ ইভানসের মতে, ‘সরকার গভীর সমুদ্র তেল ও গ্যাস প্রকল্প ইজারার জন্য যেভাবে অবিবেচকের মতো উঠেপড়ে লেগেছে, তা ঠেকানোর জন্য বড় একটি পদক্ষেপ হলো উচ্চ আদালতের এই রায়। পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবসহ শীর্ষ বিজ্ঞানীদের পরামর্শ উপেক্ষা করে সরকার কেন উত্তর সাগরে অফশোর প্রকল্প নিয়ে এতটা আগ্রাসীভাবে এগুচ্ছে, মন্ত্রীদের এখন আদালতের সামনে সেই যুক্তি তুলে ধরতে হবে।’
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সরকারের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে একই ধরনের মামলা করে রেখেছে ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ ও আপলিফট।