হানওয়া কর্তৃক অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দাইয়ু পর্ষদের

আর্থিক সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু শিপবিল্ডিং অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ডিএসএমই) বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সম্প্রতি কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ নতুন ব্যবস্থাপনা ও পর্ষদ সদস্য নির্বাচনসহ এসব পরিবর্তনের প্রস্তাবনায় অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া হানওয়া গ্রুপের অংশ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রিব্র্যান্ডিংয়ের বিষয়েও সবুজ সংকেত দিয়েছে পর্ষদ। এতে করে হানওয়া গ্রুপ কর্তৃক ডিএসএমই অধিগ্রহণের পথে আরও একটি বাধা দূর হলো।

হানওয়ার দাইয়ু অধিগ্রহণ নিয়ে অনেকদিন ধরেই আলোচনা ও উদ্যোগ চলে আসছে। মাস ছয়েক আগে দাইয়ুর শেয়ার কেনার বিষয়ে কোম্পানিটির সিংহভাগ শেয়ারের মালিক কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তি করে হানওয়া। তবে অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন যার অন্যতম। এখন হানওয়াকে আরেকটি ধাপ পেরুতে হবে। সেটি হলো দাইয়ুর শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন পাওয়া। পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলতি মাসেই শেয়ারহোল্ডারদের সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে, দাইয়ুর ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ মালিকানা কিনে নেবে হানওয়া। এর বিনিময়ে শিপইয়ার্ডটিকে মূলধন হিসেবে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার দেবে তারা। এ লক্ষ্যে দাইয়ুর ১০ কোটির বেশি নতুন শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে, যেগুলো হানওয়ার পাঁচটি ডিভিশন ভাগাভাগি করে নেবে।

এর আগেও আর্থিক সংকটে পড়েছিল দাইয়ু। সেবার কোম্পানিটিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে সরকার। ১৯৯৯-২০০১ মেয়াদের সেই বেইলআউট কর্মসূচির মাধ্যমেই দাইয়ুর সিংহভাগ শেয়ারের মালিক হয় রাষ্ট্রায়ত্ত কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। তবে হানওয়ার বিনিয়োগের পর ব্যাংকটি আর দাইয়ুর শীর্ষ শেয়ারমালিক থাকছে না। কোম্পানিটিতে তাদের শেয়ার ২৮ শতাংশে নেমে আসবে।

এর আগে ডিএসএমইকে অধিগ্রহণ করতে চেয়েছিল স্বদেশী জায়ান্ট হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ। কিন্তু ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তারা। ইসির আশঙ্কা ছিল, এই অধিগ্রহণের ফলে বাজার প্রতিযোগিতা হুমকির মুখে পড়ে যাবে। আর তাতে জাহাজ কিনতে ক্রেতাদের ব্যয় বেড়ে যাবে। অবশ্য অধিগ্রহণে বাধা দেওয়ার আইনগত অধিকার ইসির ছিল না। ফলে এটি ঠেকাতে তারা যেটি করেছিল সেটি হলো, অধিগ্রহণের পর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল। আর এই শুল্ক আরোপ করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ত হুন্দাইয়ের জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here