১০ মাস পর মুক্ত ভিএলসিসি হিরোইক ইডুন ও এর ক্রুরা

প্রায় ১০ মাস পর বন্দীদশা থেকে মুক্ত হলো নরওয়ের মালিকানাধীন ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) হিরোইক ইডুন। তেল চুরির অভিযোগে আটকে রাখা হয়েছিল জাহাজটিকে। নাইজেরিয়ার নৌবাহিনী সম্প্রতি ক্যারিয়ারটিকে মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

গত আগস্টে হিরোইক ইডুন আটকের ঘটনাটি ঘটেছিল ভুল বোঝাবুঝির কারণে। ৮ আগস্ট অয়েল জায়ান্ট বিপি কর্তৃক ভাড়াকৃত ভিএলসিসিটি নাইজেরিয়ার জলসীমায় একটি অফশোর টার্মিনাল থেকে তেল নেওয়ার জন্য পৌঁছায়। চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন পরিচালিত আকপো অফশোর এফপিএসও থেকে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় ট্যাংকারটি একটি জাহাজকে তাদের দিকে অগ্রসর হতে দেখে। সেটিকে একটি জলদস্যুদের জাহাজ মনে করে হিরোইক ইডুন ভয়ে অফশোর প্লাটফর্মটি থেকে একুয়াটোরিয়াল গিনির জলসীমার দিকে চলে যায়। সেখানকার জলসীমায় পৌঁছে ট্যাংকারটি ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরোর (আইএমবি) পাইরেসি রিপোর্টিং সেন্টারের কাছে জলদস্যুদের হামলার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে একটি বার্তাও পাঠায়।

প্রকৃতপক্ষে তাদের দিকে অগ্রসর হওয়া জাহাজটি ছিল নাইজেরিয়ার নৌবাহিনীর একটি প্যাট্রল ভেসেল। সেই প্যাট্রল ভেসেলটি ধরে নেয়, ট্যাংকারটি অফশোর প্লাটফর্মে হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক তেল ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এবং তাদের দেখে পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় নাইজেরিয়া সরকার একুয়াটোরিয়াল গিনির কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সেভাবেই অবহিত করে এবং ট্যাংকারটিকে আটকে রাখার অনুরোধ জানায়। গিনি সরকার ট্যাংকারটিকে তিন মাস আটকে রাখে এবং নভেম্বরে নাইজেরিয়ার নৌবাহিনীর কাছে সেটিকে হস্তান্তর করে।

চুক্তির পর হিরোইক ইডুনের নিয়ন্ত্রণ এর মাস্টার তনুজ মেহতার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ট্যাংকারটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশে যাত্রা করে।

এরপর গত কয়েক মাসে হিরোইক ইডুনের মালিক, ভাড়াকারী, ম্যানেজার ও বিমাকারীরা বারবার চেষ্টা করেছে নাইজেরিয়া কর্তৃপক্ষকে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট করতে। এই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ নাইজেরিয়া সরকার ট্যাংকারটিকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়। তবে পুরো ঘটনায় যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য নাইজেরিয়ার নৌবাহিনীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়েছে ট্যাংকারটির মালিক ইডুন মেরিটাইমকে। এছাড়া প্লি ডিল হিসেবে নাইজেরিয়া সরকারকে দেড় কোটি ডলার প্রদানের চুক্তিও করতে হয়েছে তাদের।

নাইজেরিয়ার নৌবাহিনী ট্যাংকারটিকে ছেড়ে দিলেও এখনো দাবি করছে যে, হিরোইক ইডুন ও এর ২৬ ক্রু অনৈতিকভাবে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। অবশ্য শিপিং ইন্ডাস্ট্রি ও ট্যাংকারটির প্রতিনিধিত্বকারীরা এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here