কনটেইনার পরিবহনের শিডিউল রিলায়েবিলিটিতে উন্নতির গতি কমেছে

ভোক্তাচাহিদার ঊর্ধ্বগতিতে ২০২১ সালে কনটেইনার পরিবহনে জট লেগে গিয়েছিল। ২০২২ সালের শুরুর মাসগুলোও এভাবেই কেটেছে। খালি কনটেইনারের সংকট, বন্দরগুলোয় হ্যান্ডলিং সক্ষমতার ঘাটতি, বন্দরে জাহাজের অপেক্ষমান থাকার সময় বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে অপারেটরদের জন্য শিডিউল ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই বিলম্ব এখন আর নেই। কনটেইনার পরিবহনে শিডিউল রিলায়েবিলিটিও উন্নতির পথেই রয়েছে। তবে বছরের শুরুর মাসগুলোয় এই উন্নতির গতি যতটা বেশি ছিল, ২০২৩ সালের বাকি মাসগুলোয় তাতে ছেদ পড়তে পারে। এমনকি শীর্ষ ক্যারিয়ারদের ক্ষেত্রে এই সূচক উল্টোপথে হাঁটতে পারে।

৩৪টি ভিন্ন ট্রেড লেনে ৬০টির বেশি দেশের শিডিউল পারফরম্যান্স বিচার করে সি-ইন্টেলিজেন্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী অ্যালান মারফি বলেছেন, ‘শিডিউল রিলায়েবিলিটির বৈশ্বিক সূচকে মাসওয়ারি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির গতি প্রতি মাসেই কমছে ।’

চলতি বছরের এপ্রিলের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করতে গিয়ে সি-ইন্টেলিজেন্স দেখেছে, এ সময়ে বৈশ্বিক শিডিউল রিলায়েবিলিটি মার্চের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ। আগের বছরের এপ্রিলের তুলনায় তা ২৯ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। ২০২২ সালের এপ্রিলে ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে জাহাজগুলো শিডিউল অনুযায়ী চলতে পেরেছিল।

২০২৩ সালের এপ্রিলে শিডিউল রিলায়েবিলিটির মান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণে উঠে গেলেও তা করোনা মাহামারির আগের গড় মানের (প্রায় ৭২ শতাংশ) তুলনায় অনেকটাই কম।

বিশ্বের শীর্ষ ১৪টি ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও চিত্রটি অনেকটা একই রকম। এসব ক্যারিয়ার এপ্রিল মাসে বছরওয়ারি বেশ ভালো প্রবৃদ্ধিই দেখিয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে তাদের শিডিউল রিলায়েবিলিটি বেড়েছে ৫০ থেকে ২০০ শতাংশ (গড় প্রবৃদ্ধি ১১০ শতাংশ)। তবে মাসওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। চলতি বছরের মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই ১৪টি ক্যারিয়ারের রিলায়েবিলিটি শিডিউল বেড়েছে গড়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে। সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন মান তো ঋণাত্মক ১০ শতাংশে নেমে গেছে।

মারফি জানান, শীর্ষ ১৪টি ক্যারিয়ারের মধ্যে অর্ধেকে এপ্রিলে মাসওয়ারি প্রবৃদ্ধি দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এভারগ্রিন মেরিন সবচেয়ে বেশি (৭ শতাংশের কিছু বেশি) প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যদিকে জিমের রিলায়েবিলিটি কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। সবচেয়ে বেশি শিডিউল রিলায়েবিলিটি ছিল মায়েরস্কের। এরপর সবচেয়ে বেশি সময়মতো পণ্য পৌঁছে দিতে পেরেছে মেডিটারেনিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি)। ১৮টি ক্যারিয়ারের মধ্যে নয়টির বর্তমানে শিডিউল রিলায়েবিলিটি ৬০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এক বছর আগে এই হার ছিল ৩০ শতাংশের আশেপাশে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here