পাঁচ বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিচ্ছে কেনিয়া

এক হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য

কেনিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইজারা ভিত্তিতে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বন্দরগুলো হলো কিলিন্দিনি হারবার, দোঙ্গো কুন্দু পোর্ট, কিসুমু পোর্ট, শিমোনি ফিশারিজ পোর্ট ও লামু পোর্ট।

মূলত দুটি উদ্দেশ্য থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেনিয়া সরকার। প্রথমত, বন্দরগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। আর দ্বিতীয়ত, আর্থিক সংকটের মধ্যে থাকা সরকার এই ইজারার মাধ্যমে ১ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহ করবে, যা তাদের সংকট কাটাতে অনেকটাই সহায়তা করবে।

ঐতিহাসিকভাবে পূর্ব আফ্রিকার গেটওয়ে হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে কেনিয়া। আর এই কাজে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে মোম্বাসা বন্দর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী তাঞ্জানিয়ার বন্দরগুলো কেনিয়ার প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এর আগে কিলিন্দিনি হারবার, দোঙ্গো কুন্দু পোর্ট, কিসুমু পোর্ট ও শিমোনি ফিশারিজ পোর্টের পরিচালন কার্যক্রম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) খাতে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন পেক্ষাপটে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার এখন সেই উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে অগ্রসর হচ্ছে।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কেনিয়া ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (কেডিসি) মাধ্যমে লামু বন্দর পরিচালনার দায়িত্বও বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে চাইছে দেশটির সরকার। এই বন্দরটি বর্তমানে সরকারের জন্য একটি শে^তহস্তী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালের মে মাসে কমিশনিংয়ের পর এখন পর্যন্ত বন্দরটিতে ২৫টিরও কম জাহাজ ভিড়েছে। হ্যান্ডলিং হয়েছে আড়াই হাজার টিইইউর কম কনটেইনার। অথচ সেখানে তিনটি বার্থ নির্মাণের পেছনে সরকারের খরচ হয়েছে ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। উদ্বোধনের সময় সরকারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল, শিগগিরই লামু বন্দরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হয়ে উঠবে।

এই ইজারা প্রক্রিয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কেডিসি এরই মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রসপেক্টাস তৈরি করেছে। আর ইজারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে কেনিয়া পোর্টস অথরিটি ও ল্যাপসেট করিডোর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here