পেরুতে দুটি ট্যাংকারে আদিবাসী বিক্ষোভকারীদের হামলা

পেরুতে সম্প্রতি তেলবাহী দুইটি ট্যাংকারের ওপর গ্যাস বোমা হামলা চালিয়েছেন একদল আদিবাসী বিক্ষোভকারী। পেরু সরকার সোশ্যাল অয়েল ফান্ডের নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তন আনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই হামলা চালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তরপশ্চিম পেরুর লরেতো অঞ্চলে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এক বিবৃতিতে আদিবাসী সংস্থা আইডিকোবাপের সদস্যদের হামলার জন্য দায়ী করেছে ট্যাংকার দুটির অপারেটর কানাডাভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোট্যাল। তারা জানায়, আমাজনের একটি উপনদী দিয়ে যাওয়ার সময় তেলবাহী জাহাজ দুটির পথ আটকে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকটি ছোট ডিঙ্গি নৌকা থেকে ট্যাংকার দুটিকে লক্ষ্য করে গ্যাস বোমা হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা।

ট্যাংকার দুটির একটি ব্রাজিলের পতাকাবাহী। হামলার সময় সেগুলোর একটি ফাঁকা থাকলেও অপরটিতে ৪০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছিল। পেরুর সবচেয়ে উৎপাদনশীল খনি থেকে এই অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়েছিল।

পেরুর উত্তর-পশ্চিমের লরেতো অঞ্চলে অবস্থিত পেট্রোট্যালের সেই খনি থেকে আমাজন নদী দিয়ে জাহাজ দুটি ব্রাজিলের দিকে যাচ্ছিল। পেট্রোট্যালের সোশ্যাল ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজার কার্লোস মালদোনাদো জানান, বিক্ষোভকারীরা তেলভর্তি ট্যাংকারটিতে আরোহন করে এবং সেটিকে সেভেন দে জুলিও হিসেবে পরিচিত একটি শহরে নিয়ে যায়। বর্তমানে ট্যাংকারটিকে সেখানেই আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়া ট্যাংকার দুটির ১২ জন ক্রুকেও ধরে নিয়ে গেছেন তারা।

সোশ্যাল অয়েল ফান্ডের নিয়ম অনুযায়ী পেরুতে জ্বালানি কোম্পানিগুলো খনি থেকে তেল উত্তোলন করলে সেই তেলের বাণিজ্য থেকে যা মুনাফা হয়, তার একটি অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দিতে হয়। পেট্রোট্যালও তাদের মুনাফার ২ দশমিক ৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট উত্তোলন অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রদান করে থাকে। তবে লরেতো অঞ্চলের আদিবাসী গোষ্ঠীরা এই হারে মুনাফার অংশ পেয়ে খুশি নয়। বরং তারা এর পরিমাণ আরও বাড়ানোর দাবি এবং তেল ছড়িয়ে পড়ে তাদের এলাকা দূষিত হওয়ার অভিযোগ জানিয়ে আসছে অনেক দিন ধরে। এর আগেও কয়েকবার পেট্রোট্যালের সম্পদের ওপর হামলা চালিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে কম তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর অন্যতম পেরু। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৪৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here