জাতিসংঘের আহ্বানে গত ১৭ মে ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভের মেয়াদ দুই মাসের জন্য বাড়িয়েছিল রাশিয়া। তবে এই মেয়াদ শেষে রাশিয়া চুক্তিটি থেকে সরে আসতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ বলবৎ রাখতে জাতিসংঘ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে জাতিসংঘ রাশিয়ার রপ্তানি সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজ করতে সক্ষম বলেও মনে করেন তিনি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখে রুশ সেনারা। যার ফলে সমুদ্রপথে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় গত বছরেরই ২২ জুলাই তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ চুক্তি স্বাক্ষর হয় । চুক্তির আওতায় কৃষ্ণ সাগরের উপকূলবর্তী তিনটি ইউক্রেনীয় বন্দর দিয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে নিরাপদে খাদ্যশস্য ও সার রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়।
মূল চুক্তির মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ১৮ মে পর্যন্ত। তবে মেয়াদ শেষের একদিন আগেই খাদ্যশস্য পরিবহনের মানবিক করিডোর আরও দুই মাস অব্যাহত রাখতে সম্মত হয় রাশিয়া।
ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভে রাশিয়ার সম্মতি পেতে সেই সময় দেশটির সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে জাতিসংঘ। সমঝোতা স্মারকে রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানিতে সহায়তা করার আশ্বাস দেয় জাতিসংঘ। অন্যদিকে ইউক্রেনের পিভদেনি বন্দর দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে অ্যামোনিয়া রপ্তানি এবং সুইফটের (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনস) ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে রাশিয়ান এগ্রিকালচারাল ব্যাংকের (রোসেলখোজ ব্যাংক) পুনরায় সংযোগ স্থাপনের দাবি জানায় রাশিয়া।
রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও অর্থ লেনদেন, লজিস্টিক এবং বিমা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে পণ্য রপ্তানি প্রক্রিয়া বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। ক্রেমলিনের দাবি, জাতিসংঘ যেসব সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছিল, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
রাশিয়ার খাদ্যশস্য ও সারের চালান যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলো অপসারণ না করলে ১৭ জুলাই ব্ল্যাক সি গেইন ইনিশিয়েটিভ প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে মস্কো। ৯ জুন রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ভারসিনিন বলেন, সমঝোতা স্মারকটি যেভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে রাশিয়া সন্তুষ্ট হতে পারছে না। জাতিসংঘের বাণিজ্যবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা রেবেকা গ্রিনস্প্যানের সাথে আলোচনা শেষে রুশ সংবাদ সংস্থা টাসকে এ কথা জানান তিনি।
একই দিনে জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বলেন, ফ্রেইট রেট ও বিমার হার কমিয়ে এবং বন্দরগুলোয় জাহাজ চলাচল নিয়মিত করার মাধ্যমে রাশিয়ার খাদ্য ও সারের রপ্তানি বৃদ্ধি সহায়তা করছে জাতিসংঘ।