টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখার অভিযানে পাঁচ আরোহীসহ যোগাযোগবিচ্ছন্ন ডুবোযান

পানির নিচ থেকে শব্দ শনাক্ত

উত্তর আটলান্টিকে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাঁচ আরোহী নিয়ে ডুব দিয়ে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে টাইটান নামের একটি দূরনিয়ন্ত্রিত ডুবোযান (আরওভি)। মার্কিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওশানগেট ইনকরপোরেশন পরিচালিত এই ডুবোযানটিতে জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, কানাডার একটি পি-থ্রি মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট আজ (২০ জুন) অনুসন্ধান এলাকায় পানির নিচ থেকে আসা এক ধরনের শব্দ শনাক্ত করেছে। তবে এই শব্দ টাইটান থেকে আসছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই প্রথম টাইটানের অনুসন্ধান অভিযানে পানির নিচ থেকে কোনো শব্দ শনাক্ত করা গেল। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর কোনো কিছুতে আঘাত করার মতো শব্দ পাচ্ছে অনুসন্ধানকারী দল। এই শব্দের উৎস কী, সেটি জানতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

অভিযানে একযোগে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কোস্টগার্ড। এ কাজে সহায়তা করছে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিভিন্ন বেসরকারি উদ্ধারকারী দল। মার্কিন কোস্টগার্ড এই অভিযানকে অত্যন্ত জটিল হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশেষ করে ডুবোযানটিতে আর মাত্র ৪০ ঘণ্টা সাপোর্ট দেওয়ার উপযোগী অক্সিজেন অবশিষ্ট থাকার বিষয়টিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেপ কোড থেকে প্রায় ৯০০ মাইল পূর্ব ও কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জোনস থেকে ৪০০ মাইল দক্ষিণে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ২১ ফুট দীর্ঘ ডুবোযানটির অনুসন্ধানে অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশাল আটলান্টিকে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলা টাইটানের অবস্থান শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ডুবোযানটির পাঁচ আরোহী এখনো সুস্থ আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাইরে থেকে সাহায্য না পেলে তারা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে পারবেন না। এ কারণে আরোহীদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য ডুবোযানটির সন্ধান পাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

ওশানগেট এক্সপেডিশনের অংশ হিসেবে আটলান্টিকে টাইটানিকের ধ্বাংসাবশেষ দেখতে যাওয়ার এই অভিযানের ব্যবস্থা করা হয়। আটদিনের এই অভিযানে জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয় আড়াই লাখ ডলার। অভিযান পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন, ডুবোযানে আটকা পড়া পাঁচ অভিযাত্রী হলেন ব্রিটিশ ধনকুবের হামিশ হারডিং, ফরাসি ডুবুরি পল-হেনরি নারজিওলেট, পাকিস্তানি বিলিওনেয়ার শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে সুলাইমান দাউদ এবং ওশানগেটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টকটন রাশ।

পোলার প্রিন্স

নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জোনস থেকে অভিযানটি শুরু হয়। আরওভি টাইটানকে নির্দিষ্ট গন্তবে বয়ে নিয়ে যায় পোলার প্রিন্স নামের একটি সাপোর্ট শিপ। ১৮ জুন সকালে নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছে সাগরের তলদেশে থাকা টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করে ডুব দেয় টাইটান। প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ধরে নিচের দিকে যাওয়ার পর টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল সেটির। কিন্তু ডুব দেওয়ার ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরই পোলার প্রিন্সের সাথে যোগাযোগ হারায় টাইটান। কী কারণে ডুবোযানটি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, কিংবা নিখোঁজের সময় এটি টাইটানিকের কতটা কাছাকাছি পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিল, সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here