দেড় সহস্রাধিক যাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ডুবে যাওয়ার পর একশ বছরের বেশি সময় ধরে সাগরতলে সমাধিস্থ অবস্থায় রয়েছে টাইটানিক। প্রথম যাত্রায় সেই সময়কার বৃহত্তম জাহাজ টাইটানিকের ডুবে যাওয়া এখনো পর্যন্ত বিষ্মিত, বেদনার্ত করে বিশ্ববাসীকে। ইতিহাসের সেই বিষ্ময়কে কাছ থেকে দেখার উদ্দেশ্যে গত রোববার পাঁচ অভিযাত্রীকে নিয়ে উত্তর আটলান্টিকে ডুব দিয়েছিল পর্যটন সংস্থা ওশানগেটের দূরনিয়ন্ত্রিত ডুবোযান (আরওভি) টাইটান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে টাইটানীকের যাত্রীদের মতো একই পরিণাম ঘটেছে টাইটানের পাঁচ আরোহীর।
বৃহস্পতিবার টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছে আরেকটি ধ্বংসস্তুপ খুঁজে পাওয়া গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নতুন পাওয়া ধ্বংসস্তুপটি টাইটানের। মার্কিন কোস্টগার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মগার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে মারাত্মক বিস্ফোরণেই টাইটান ধ্বংস হয়েছে।
কি ঘটেছিল
বিস্ফোরণ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে, অন্তর্মুখী (ইমপ্লোশন) ও বহির্মুখী (এক্সপ্লোশন)। যখন কোনো আবদ্ধ বস্তুর ভেতর প্রচন্ড পরিমাণে চাপ সৃষ্টি হয়, তখন সেটা বাইরের দিকে বিস্ফোরিত হয়, যা বহির্মুখী বিস্ফোরণ বা এক্সপ্লোশন। এর বিপরীত চিত্র দেখা যায় অন্তর্মুখী বিস্ফোরণে। কোনো বস্তুর ওপর বাইরের চাপ সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গেলে অন্তর্মুখী বিস্ফোরণ বা ইমপ্লোশন ঘটে থাকে। টাইটানের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর সাগরের মাত্রাতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে আরোহী সমেত বিস্ফোরিত হয়েছে ডুবোযানটি।
টাইটানের নির্মাতা স্টকটন রাশের দেওয়া তথ্যমতে, নাসা ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা অনুযায়ী কার্বন ফাইবার ও টাইটানিয়াম দিয়ে ডুবোজাহাজটি তৈর করা হয়েছিল। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানায়, ২২ ফুট দৈর্ঘ্যরে ডুবোজাহাজটি সমুদ্রের নিচে প্রায় ১৩ হাজার ফুট বা ৪ হাজার মিটার পর্যন্ত যেতে সক্ষম।
তবে ২০১৮ সালে টাইটানের নকশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র তলদেশে অভিযান চালাতে হলে সেই গভীরতার চাপ সহ্য করার সক্ষমতা থাকা উচিত। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, টাইটানের কারিগরি দিকগুলো স্বতন্ত্র কোনো বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান কখনো যাচাই-বাছাই করে দেখেনি।
২০১৮ সালে এক প্রতিবেদনে ওশানগেটের সামুদ্রিক অভিযান বিভাগের পরিচালক ডেভিড লকরিচ জানিয়েছিলেন, ডুবোজাহাজটির আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। সেই বছর ওশানগেট ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন লকরিচ। তাদের আইনি লড়াই থেকে জানা যায়, সাগর তলদেশে ১ হাজার ৩০০ মিটার পর্যন্ত যাওয়ার প্রত্যয়নপত্র ছিলো টাইটানের ভিউপোর্টের। যা টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ যে গভীরতায় রয়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও কম।
অন্যদিকে, ডুবোজাহাজটি একটি ‘প্রোটোটাইপ’ ছিলো বলে জানিয়েছেন ওশানগেটের শেয়ারহোল্ডার ও চারবার টাইটানে ভ্রমণকারী অভিযাত্রী অ্যারন নিউম্যান।