বৈশ্বিক কনটেইনার পরিবহনের গতি বাড়েনি

করোনা মহামারির পর চীনের শিল্পোৎপাদন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি প্রত্যাশার চেয়ে ধীর রয়েছে। এছাড়া খুচরা পণ্যের অন্যতম বড় ক্রেতা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অর্থনৈতিক অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এসবের প্রভাবে বছরের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি অনেকটাই থমকে গেছে।

করোনার প্রথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর ইউরোপ-আমেরিকার ভোক্তাবাজার অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি আকাশচুম্বী হয়েছিল। আর এর সুবাদে প্রধান সরবরাহকারী দেশ চীনের শিল্পোৎপাদনে জোয়ার তৈরি হয়েছিল। তবে অর্থনৈতিক মন্দাভাবে ক্রেতা দেশগুলোয় ভোক্তাচাহিদা এখন পড়তির দিকে। বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

নেদারল্যান্ডস ব্যুরো অব ইকোনমিক পলিসি অ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমভিত্তিক তুলনামূলক হিসাবে ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল মেয়াদে বৈশ্বিক বাণিজ্যের আকার ১৭ মাস আগের (২০২১ সালের সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মেয়াদ) চেয়ে বাড়তে পারেনি। বরং এক বছর আগের তুলনায় বাণিজ্যের পরিমাণ কমেছে।

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে চীনের উপকূলীয় বন্দরগুলোয় কনটেইনার হ্যান্ডেলিং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সিঙ্গাপুর পোর্ট দিয়ে কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে ৩ শতাংশ। এর বাইরে বাকি অঞ্চলগুলোয় কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কম রয়েছে।

বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নয় বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং ১৬ শতাংশ কমেছে। আর প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন কমেছে ১০ শতাংশ।

২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন খাতে বড়সড় ধস নেমেছিল। তবে আশার কথা হলো, এই খাত এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। অবশ্য চীনের বাইরে কনটেইনার পরিবহনে উন্নতির কোনো চিহ্ন এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here