ওমান উপসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে যে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর গোলাবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইরানের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে, সেটিকে আটক করতে আদালতের আদেশ ছিল বলে দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। ইরানের পাল্টা অভিযোগ, ট্যাংকারটি তাদের একটি জাহাজকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় ট্যাংকারটিকে থামতে নির্দেশ দেওয়া হলেও সেটি থামেনি।
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ওমান উপকূলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা অবস্থায় বাহামার পতাকাবাহী ট্যাংকার রিচমন্ড ভয়েজারের কাছ থেকে একটি জরুরি সাহায্যবার্তা পায় তারা। এর সঙ্গে সঙ্গেই গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ম্যাকফাউলকে ঘটনাস্থলে পাঠায় মার্কিন নৌবাহিনী। ইরানি কর্তৃপক্ষ রিচমন্ড ভয়েজারকে থামতে নির্দেশ দেওয়ার পর ট্যাংকারটির ওপর গোলাবর্ষণ শুরু করে। তবে ম্যাকফাউল পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ সেখান থেকে চলে যায়।
এদিকে ইরিন নিউজ এজেন্সিকে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সেন্টার জানিয়েছে, রিচমন্ড ভয়েজার একটি ইরানি জাহাজকে ধাক্কা দেয়। এতে করে জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেটিতে পানি উঠতে শুরু করে। এছাড়া জাহাজটিতে থাকা সাত ক্রুর মধ্যে পাঁচজন আহত হন। ধাক্কা দেওয়ার পর ট্যাংকারটি না থেমে চলে যেতে উদ্যত হয়। এ সময় ইরানি জাহাজটি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে যেন ট্যাংকারটিকে আটক করা হয়। এছাড়া ট্যাংকারটিকে আটক করার বিষয়ে আদালতের পক্ষ থেকেও আদেশ ছিল।
রিচমন্ড ভয়েজারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি শেভরন জানিয়েছে, ট্যাংকারটির সব ক্রু নিরাপদে আছেন এবং সেটি স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রম চালাচ্ছে।
২০১৯ সাল থেকে উপসাগরীয় জলসীমায় ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেওয়া নিয়ে বিরোধ চলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে। এর আগে একই এলাকায় মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ট্যাংকার টিআরএফ মসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এছাড়া মাসখানেক আগে এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি ট্যাংকারকে আটক করেছিল ইরান।