আমেরিকান ব্যুরো অব শিপিং (এবিএস) সম্প্রতি বড় আকারের দুটি জাহাজে নিউক্লিয়ার প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণা সম্পন্ন করেছে।
জাহাজে নিউক্লিয়ার শক্তির ব্যবহার অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। তবে বাণিজ্যিক জাহাজে এর ব্যবহার আগে দেখা যায়নি। তবে কার্বনমুক্ত প্রপালশন ব্যবস্থা হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজেও নিউক্লিয়ার শক্তির ব্যবহার নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি চুক্তির অধীনে হেবার্ট ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের সাথে মিলে দুটি নিয়মিত ক্লাসের জাহাজে নিউক্লিয়ার প্রপালশন সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করে এবিএস। জাহাজ দুটির একটি হলো ১৪ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার পোস্ট-প্যানাম্যাক্স কনটেইনার জাহাজ ও অন্যটি হলো ১ লাখ ৫৭ হাজার ডেডওয়েট টনের সুয়েজম্যাক্স ট্যাংকার।
কনটেইনার জাহাজটিতে প্রতিটি ৩০ মেগাওয়াট শক্তি সরবরাহকারী ফাস্ট টুইন রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়, যা মোট ৬০ মেগাওয়াট (৮০ হাজার হর্সপাওয়ার) শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম। পরীক্ষায় দেখা যায়, এই প্রপালশন সিস্টেম কনটেইনার জাহাজের কার্গো পরিবহন সক্ষমতার পাশাপাশি জাহাজের অপারেটিং স্পিডও বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
এদিকে সুয়েজম্যাক্স ট্যাংকারটিতে স্থাপিত পাওয়ার কনফিগারেশন ছিল একটু ভিন্ন। এতে প্রতিটি ৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার চারটি হিট-পাইপ মাইক্রেরিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়, যেগুলোর সম্মিলিত শক্তি সরবরাহের সক্ষমতা ২০ মেগাওয়াট (২৭ হাজার হর্সপাওয়ার)। গবেষণায় দেখা যায়, এই সিস্টেম ট্যাংকারের গতি তো বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু এর কার্গো পরিবহন সক্ষমতা খানিকটা কমে যায়।