লোহিত সাগরে ইয়েমেন উপকূলে নোঙর করে রাখা পুরনো একটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অফশোর (এফএসও) ইউনিট থেকে ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। জাতিসংঘ আজ মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) এ কথা জানিয়েছে।
অনেকদিন ধরেই সেফার নামের ওই এফএসওকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে আসছে জাতিসংঘ। এফএসওটি কোনো দুর্ঘটনায় পড়লে সেটি থেকে ১৯৮৯ সালে আলাস্কায় সংঘটিত এক্সন ভালদেজ দুর্ঘটনার চেয়ে চারগুণ বেশি তেল সাগরের পানিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
লোহিত সাগরে ইয়েমেন উপকূল থেকে ৪ দশমিক ৮ নটিক্যাল মাইল গভীরে রাস ইসা অঞ্চলে ১৯৮৮ সাল থেকে নোঙর করে রাখা আছে সেফারকে। এটি আসলে একটি রূপান্তরিত সুপার ট্যাংকার। ইয়েমেনের মারিব তেলক্ষেত্র থেকে আসা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল গ্রহণ, সংরক্ষণ ও রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল ইউনিটটি। তবে ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমনকি এই দীর্ঘ সময়ে ইউনিটটিতে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়নি।
এফএসও ইউনিটটির কাঠামোগত অবস্থা ক্রমেই খারাপ হওয়ায় এটি আর ঠিক করাও যাবে না বলে মনে করে জাতিসংঘের সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা আইএমও। ইউনিটটি ভেঙে পড়লে বা সেখানে কোনো বিষ্ফোরণ ঘটলে যে পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়বে, তা আটকানোর সক্ষমতা ইয়েমেনের নেই। এ কারণে সম্ভাব্য সেই বিপর্যয় ঠেকানোর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছিল সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, জরুরি ভিত্তিতে সেফার থেকে শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার পদ্ধতিতে তেল সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) কিনেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।