এফএসও সেফার থেকে ১১ লাখ ব্যারেল তেল স্থানান্তর সম্পন্ন

লোহিত সাগরে ইয়েমেন উপকূলে নোঙর করে রাখা পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লোটিং স্টোরেজ অফশোর (এফএসও) ইউনিট সেফার থেকে শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার পদ্ধতিতে যতটুকু সম্ভব তেল স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তত্ত্বাবধানে গত ২৫ এই স্থানান্তর কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। আর তেল স্থানান্তরের কাজটি করছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক কোম্পানি রয়েল বোসকালিস ওয়েস্টমিনস্টারের সাবসিডিয়ারি স্মিট স্যালভেজ।

শুক্রবার (১১ আগস্ট) খবরটি নিশ্চিত করে একে অনেক বড় একটি সফলতা হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। তারা বলেছে, এই কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগলেও সম্ভাব্য পরিবেশগত বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হওয়াটা অনেক বড় একটি অর্জন। সেফারের তেল ছড়িয়ে পড়লে লোহিত সাগরের অনেকখানি জায়গাজুড়ে বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে যেত। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট টিম, দাতা সংস্থা ও অংশীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ইউএনডিপি ও স্মিট স্যালভেজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে সেফার থেকে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল লাইট ক্রুড (অপরিশোধিত তেলের একটি গ্রেড) এমওএসটি ইয়েমেন নামের একটি ট্যাংকারে স্থানান্তর করা সম্পন্ন হয়েছে। অবশ্য দুই শতাংশেরও কম তেল এখনো সেফারে রয়ে গেছে। তবে সেগুলো সাধারণ প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা সম্ভব নয়। কারণ এই তেল সেফারের ট্যাংকের নিচের খাদের সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় রয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে এই খাদমিশ্রিত তেলের যতটা সম্ভব অপসারণ করা হবে। এই তেলও এমওএসটি ইয়েমেনে সংরক্ষণ করা হবে। স্মিট স্যালভেজ জানিয়েছে, এ কাজে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এদিকে ইউএনডিপির কর্মকর্তারা বলছেন, যতটুকু কাজ বাকি রয়েছে, তা সম্পন্ন করার জন্য দুই-তিন সপ্তাহ বরাদ্দ রেখেছেন তারা।

শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার পদ্ধতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এফএসও সেফার থেকে তেল ইউএনডিপির কেনা ট্যাংকার এমওএসটি ইয়েমেনে নেওয়া হচ্ছে

এমওএসটি ইয়েমেন হলো ৩ লাখ ৭ হাজার ডিডব্লিউটির একটি ডাবল হালের ট্যাংকার, যেটি ইউরোন্যাভের কাছ থেকে কিনে ইয়েমেনকে দিয়েছে ইউএনডিপি। ২০০৮ সালে নির্মিত ট্যাংকারটির আগের নাম ছিল নটিকা।

বোসকালিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিটার বের্দোওস্কি জানান, স্মিট স্যালভেজের টিম গত মে মাসের শেষের দিক থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছে। নিরাপদে তেল অপসারণের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে ইউএনডিপির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া সেফারের কাঠামো, ট্যাংক ও কার্গোর অবস্থা পৃঙ্খানুপুঙ্খরূপে পর্যালোচনার পরই তেল স্থানান্তরের চূড়ান্ত কর্মতৎপরতা চালানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সব ধরনের নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনেকদিন ধরেই সেফারকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে আসছিল জাতিসংঘ। লোহিত সাগরে ইয়েমেন উপকূল থেকে ৪ দশমিক ৮ নটিক্যাল মাইল গভীরে রাস ইসা অঞ্চলে ১৯৮৮ সাল থেকে নোঙর করে রাখা আছে এটি। সেফার আসলে একটি রূপান্তরিত সুপার ট্যাংকার। ইয়েমেনের মারিব তেলক্ষেত্র থেকে আসা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল গ্রহণ, সংরক্ষণ ও রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এটি। তবে ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমনকি এই দীর্ঘ সময়ে এফএসওটিতে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়নি।

সেফারের কাঠামোগত অবস্থা ক্রমেই খারাপ হওয়ায় এটি আর ঠিক করাও যাবে না বলে মনে করে জাতিসংঘের সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা আইএমও। ইউনিটটি ভেঙে পড়লে বা সেখানে কোনো বিষ্ফোরণ ঘটলে যে পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়বে, তা আটকানোর সক্ষমতা ইয়েমেনের নেই। এ কারণে সম্ভাব্য সেই বিপর্যয় ঠেকানোর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছিল সংস্থাটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here