ব্যবসা খাতে পরিবেশগত, সামাজিক ও করপোরেট সুশাসনের (ইএসজি) চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। মুনাফাসক্ষমতা ও টেকসই সম্প্রসারণের নেপথ্যে এর যে বড় ভূমিকা রয়েছে, সেই বিষয়টি করপোরেট-বিশ্ব অনুধাবন করতে শুরু করেছে। এই দলে রয়েছে সমুদ্র পরিবহন খাতের অংশীজনরাও।
ইএসজি হলো, কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রে বেঁধে দেওয়া বিভিন্ন মানদন্দের সেট, যার বাস্তবায়ন অনুযায়ী সচেতন বিনিয়োগকারীর ওই কোম্পানিতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। সমুদ্র পরিবহন শিল্পের বিনিয়োগকারী, বিমাকারী, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, ক্রেতা, বিশ্ব খ্যাত বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও রিটেইলার (যেমন অ্যামাজন, ইউনিলিভার, এইচপি, আইকিয়া ইত্যাদি) এবং অন্য অংশীজনরা এই খাতেও ইএসজির চর্চা শুরুর জন্য অব্যাহত চাপ দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই আর। হয় তাদের কার্যকর ইএসজি কৌশল বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে হবে, অথবা ব্যবসা থেকে ছিটকে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
ইএসজিকে এখন আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এই চর্চার আওতাধীন সম্পদের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের একটি উপাত্ত বলছে, সারা বিশ্ব মোট ১৪০ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ ইএসজির আওতায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর এক-তৃতীয়াংশের বেশি বা ৫৩ লাখ কোটি ডলারের সম্পদ ২০২৫ সালের মধ্যেই ইএসজির আওতায় আসবে। বিনিয়োগকারী, ব্যাংক, ভোক্তা, এমনকি শিপিং খাতের কর্মীরাও কার্বন নিঃসরণ কমানো, মেধা ব্যবস্থাপনা, তথ্য সুরক্ষা, ক্রুদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ইত্যাদি বিষয়ে প্রকৃত, গ্রহণযোগ্য ও মানসম্পন্ন তথ্য সরবরাহের ওপর জোর দিচ্ছেন। ইএসজির আওতায় শিপিং কোম্পানিগুলো এসব তথ্য সরবরাহ করলে কার্যকর ও টেকসই মূল্যায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।