নারী নাবিক বলতে আজকের দিনে যে আত্মপ্রত্যয়ী এবং দক্ষ মেরিনারের মুখ ভেসে ওঠে, তা কিন্তু একদিনে অর্জিত হয়নি। আঠারো ও উনিশ শতকে নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্ত্রীরা ছাড়া আরও অনেক নারীই সমুদ্রযাত্রায় নাবিকদের সঙ্গী হতেন, যা বেশির ভাগ সময়েই সম্মানিত কোনো পদ হতো না। রাঁধুনি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, এমনকি দেহপসারিণী হিসেবে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় যোগ দিয়েছেন নারীরা। রক্তে অ্যাডভেঞ্চারের নেশা নিয়ে জন্মানো অনেক নারী সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে সরাসরি নাবিক হিসেবে, এমনকি পুরুষ ছদ্মবেশে হলেও বিশ^ পরিভ্রমণ করেছেন সমুদ্রপথে, তাও সেই আঠারো শতাব্দীতে! ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে, যুদ্ধে-জলদস্যুর আক্রমণে শক্তপোক্ত, কর্কশ নাবিকদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করেছেন তাঁরাও, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ইতিহাস তাঁদের প্রাপ্য সম্মান তো দূরের কথা, নামটাও উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করেনি। গোপন করা হয়েছে তাঁদের উপস্থিতি। সেই অভাব কিছুটা ঘুচিয়েছে সুজান জে স্টার্কের গবেষণাগ্রন্থ ফিমেল টারস: উইমেন অ্যাব্রোড শিপ ইন দ্য এজ অব সেইল।
বইটির প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে পেটের দায়ে নিশিকন্যা বনে যাওয়া হতভাগ্য মেয়েদের গল্প। ডেকের সবচেয়ে নিচের অংশে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্ন মানের খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে বাধ্য হওয়া মেয়েদের কোনো ছুটির দিন, শোর লিভ ছিল না। অচেনা বন্দরে পরিত্যক্ত হওয়ার ভয়ে তাঁরা ছুটি চাইতেনও না।
লোয়ার ডেকে থাকা স্ত্রীদের কাহিনি উঠে এসেছে দ্বিতীয় অধ্যায়ে। কর্মচারী হিসেবে নাম এন্ট্রি না হওয়ায় নাবিকের স্ত্রীরা স্বামীর রেশন ভাগ করে খেতেন, কোনো আলাদা কক্ষ দূরের কথা, ঘুমানো বা পোশাক পরিবর্তনের জন্য একটু আড়ালও থাকত না। অথচ অনেকেই বিনা বেতনে রাইফেল রিলোড, পরিচ্ছন্নতা বা অন্যান্য কাজে সহকারী হিসেবে স্বামীর পাশে থাকতেন।
তৃতীয় অধ্যায় সেই সব অসম সাহসী নারী নাবিকদের, যারা পুরুষবেশে মেরিনার বনে গিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তখন মধ্যগগনে, বিপুল পরিমাণে নাবিক দরকার ছিল সরকারের। নাবিকের খাতায় নাম লেখাতে চাইলে কাউকেই ফেরানো হতো না। ন্যূনতম শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি করা হতো নৌবাহিনীতে।
উইলিয়াম শ্যান্ডলার ছদ্মনামে ১৭৬০ সালে পুরুষবেশে সমুদ্র অভিযানে অংশ নেওয়া জাহাজ মেরামতকর্মী নারী মেরি লেসির কাহিনি রয়েছে ২৪৪ পৃষ্ঠার বইয়ের চতুর্থ তথা শেষ অধ্যায়ে। ব্রিটিশ এডমিরালটি থেকে সরকারি পেনশন মঞ্জুর হওয়া প্রথম নারী নাবিক ছিলেন তিনি।
২০১৭ সালে নেভাল ইনস্টিটিউট প্রেস থেকে রিপ্রিন্ট হওয়া ফিমেল টারস: উইমেন অ্যাব্রোড শিপ ইন দ্য এজ অব সেইলের কিন্ডল ই-বুক সংস্করণ ১০ মার্কিন ডলার, পেপারব্যাক ১৮.৯৫ এবং হার্ডকভার মিলবে ৩৬ ডলারে।
আইএসবিএন-১০: ১৫৯১১৪৫৭২৪
আইএসবিএন-১৩: ৯৭৮-১৫৯১১৪৫৭২১