ফ্যাল কনভেনশন বাস্তবায়নে ধুঁকছে বন্দরগুলো

আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার (আইএমও) কনভেনশন অন ফ্যাসিলিটেশন অব ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ট্রাফিক (ফ্যাল কনভেনশন) বাস্তবায়নে বিশে^র অধিকাংশ বন্দরই পিছিয়ে আছে। গত বছরের অক্টোবরে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব পোর্টস অ্যান্ড হার্বারস (আইএপিএইচ) পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ বন্দর ইলেকট্রনিক ডেটা বিনিময়ের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নে ধুঁকছে।

ভেসেল, কার্গো, নাবিক ও যাত্রীদের ছাড়পত্রে সহায়তা করতে ফ্যাল কনভেনশন অনুযায়ী জাতীয় সরকারগুলোকে জাহাজ ও বন্দরের মধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্য বিনিময় বাধ্যতামূলক। জরিপে এ কনভেনশন বাস্তবায়নের বর্তমান চিত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধকগুলোও তুলে ধরা হয়েছে।

আইএপিএইচ পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে, বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক তথ্য বিনিময়ে বন্দরগুলো রীতিমতো সংগ্রাম করে যাচ্ছে। জরিপে অংশ নেয়া বন্দরগুলোর এক-তৃতীয়াংশ এখনো এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন শুরুই করেনি। এক- তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার নকশা প্রণয়ন করেছে এবং বাদবাকিগুলো তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা চালু করেছে।

আইএপিএইচ জানিয়েছে, বন্দরে ছাড়পত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতার অন্যতম কারণ ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা। প্রতিটি কর্তৃপক্ষের নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। এক্ষেত্রে ডেটা চাহিদায়ও ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়া সবগুলো কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠিত নিজস্ব সংস্কৃতি ও চর্চা অনুসরণ করে থাকে। পাশাপাশি সংস্থাগুলোর নিজস্ব আইনগত কাঠামোও ফ্যাল কনভেনশন বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে।

জরিপে উঠে এসেছে, বন্দর ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বও তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে থমকে দিচ্ছে। ভেসেল ও কার্গো চলাচল ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে সাধারণত কাজ থাকে বন্দর সংস্থাগুলো। অন্যদিকে ইমিগ্রেশন এবং কিছুমাত্রায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নাবিক ও যাত্রী ছাড়পত্র প্রক্রিয়ায় মুখ্য ভূমিকা রাখে।

জরিপ প্রতিবেদনে আইএপিএইচ ফ্যাল কনভেনশন বাস্তবায়নে জরুরি তাৎক্ষণিক, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপগুলো শনাক্ত করে সেগুলোর ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here