চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বড় সম্ভাবনার জায়গা বাংলাদেশ

আইসিএমএবির সম্মেলনে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বড় সম্ভাবনার জায়গা হলো বাংলাদেশ। ডিজিটাল প্রযুক্তি উন্নয়নের ফলে দেশের অর্থিক ও ব্যাকিং সিস্টেমের পরিবর্তন এবং শিল্প-কারখানায় উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন এরই মধ্যে চোখে পড়েছে। কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকার পরও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে বড় ধরনের সুফল ভোগ করবে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ কাউন্সিলের উদ্যোগে ‘চতুর্থ শিল্প বিল্পব: বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা ও সুযোগ’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান, এনডিসি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএমএবির সাবেক সভাপতি আরিফ খান। সম্মেলনে আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সাফা) প্রেসিডেন্ট এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, চট্টগ্রামের সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক, আইসিএমএবি চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আরিফ, মোহাম্মদ মনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে এরই মধ্যে প্রবেশ করেছে, তবে এর সফলতা বহুলাংশে নির্ভর করছে পেশাগত হিসাববিদসহ সব পেশাজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর। এরই মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটে ২০২৪ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হবে বাংলাদেশ। সুতরাং উপরোক্ত বিষয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলোর উন্নতিতে মনোযোগ দেয়ার এখন উপযুক্ত সময়।

আইসিএমএবির সাবেক সভাপতি আরিফ খান বলেন, বাংলাদেশের ২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এ ১২ বছরে জিডিপি ১০০ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশের এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে শিল্প বিপ্লবের কারণে। পানি, বিদ্যুৎ, কম্পিউটারাইজড সিস্টেম, ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির কারণে আজ পৃথিবীর এ বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বর্তমানে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল কারেন্সি বড় ভূমিকা রেখেছে। যার কারণে গত ১০ বছরে বাংলাদেশে অর্থ ব্যবস্থার বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।

আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট আবু বকর সিদ্দিক এফসিএমএ বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দৌরগোড়ায় বাংলাদেশ। টেকসই আইসিটি উন্নয়ন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাড়ানো, নারী ও শিশুদের অবস্থার উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়ানো রাজনৈতিক সিস্টেম এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের উন্নতি করা গেলে দেশে এ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সৌভাগ্য বয়ে আনবে। এ বিপ্লবের মাধ্যম দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হবে। সার্বিকভাবে বাংলাদেশে এ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দেশের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বড় সুফল পাবে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ছে। এ শিল্প বিপ্লবের কারণে শিল্প খাতের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নতি চোখে পড়ার মতো।

সম্মেলনে ইনফিনিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আলমের পরিচালনায় ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব: সীমাবদ্ধতাকে সুযোগে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামানের পরিচালনায় ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব: ব্যাংকিং সেক্টরের প্রস্তুতি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন বিনিয়োগ কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার সাহা।

এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইনডেক্স গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রশিদ এবং সুনসিং গ্রুপের সিএফও কাউসার আলম। বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সেলিম উদ্দিন এবং বিডিআরএএলের (ডান অ্যান্ড ব্রাডস্ট্রিট) সিইও ড. সৈয়দ এ মামুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here