ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরে আগ্রহী বাংলাদেশ

রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন পূর্ব ইউরোপীয় দেশ বেলারুশ, কাজাখস্তান, আর্মেনিয়া ও কিরগিজস্তান নিয়ে গঠিত ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের (ইএইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ-সংক্রান্ত এফটিএ স্বাক্ষরের বিষয়ে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনকে (ইইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সম্প্রতি অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক ব্লক ইএইইউভুক্ত দেশগুলোর ২০২০ সালে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৩১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। দেশগুলোর জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) পরিমাণ ১ হাজার ৭৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশীয় রপ্তানি পণ্যের জন্য বিপুল সম্ভাবনাময় এসব বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় না বাংলাদেশ। গত এক দশকে এসব দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়লেও তা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ইএইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে অঞ্চলটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ইএইইউতে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৪৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশের নিটওয়্যার, পাটপণ্য ও চিংড়িসহ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে। শুল্কমুক্ত সুবিধা না থাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি ব্যাংকিং লেনদেনে জটিলতার কারণে রপ্তানি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ছে না। এ কারণেই এফটিএ স্বাক্ষরের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা নিশ্চিত করা ও রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি সোয়াপ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট (টিফা) স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহায়তা বাড়াতে রাশিয়াও বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তঃসরকার কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয়। ২০১৭ সালে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও রাশিয়া।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বাণিজ্য সুবিধা আদায়ের জন্য পিটিএ বা এফটিএর মতো বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ভুটানের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষর করা হয়েছে। আরও বেশকিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আলোচনা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here