একদিকে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক স্থবিরতা, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা- যুক্তরাজ্যের বন্দরগুলোয় বিনিয়োগ আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারত এ দুটি বিষয়ই। তবে বাস্তবে দেখা গেল বিপরীত চিত্র। ব্রিটিশ পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের বন্দরগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ টেনেছে ১৩০ কোটি ডলারের। ২০২০ সালে এর পরিমাণ ছিল ৮০ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ অনিশ্চয়তা থাকলেও গত বছর বিনিয়োগ আকর্ষণে সফল ছিল ব্রিটিশ বন্দরগুলো।
গত বছর সবচেয়ে বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এসেছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে। লন্ডন গেটওয়ে টার্মিনালের জন্য একটি নতুন বার্থ নির্মাণে ৪০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে তারা। এটি হবে লন্ডন গেটওয়ে টার্মিনালের চতুর্থ বার্থ, যেটি নির্মাণের ফলে কনটেইনার পোর্টটির সক্ষমতা এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাবে এবং বড় আকারের, এমনকি ২৪ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার দৈত্যাকার জাহাজগুলোও সেখানে ভিড়তে পারবে।
এছাড়া আরও যেসব উল্লেখযোগ বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে গত বছর, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- পেমব্রোক পোর্টের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৮ কোটি ৯ লাখ ডলার, পোর্ট অব ক্রোমার্টি ফার্থের সম্প্রসারণে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, পোর্ট অব লেইথে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার, পোর্ট অব লোয়িস্টফটের ইস্টার্ন এনার্জি ফ্যাসিলিটিতে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার এবং টিসপোর্টসের নতুন বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণে ১ কোটি ২৪ লাখ ডলার বিনিয়োগ।
যুক্তরাজ্যের বন্দরগুলো প্রতিবছর প্রায় ৫০ কোটি টন কার্গো হ্যান্ডলিং করে, দেশটির মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের যা প্রায় ৯৫ শতাংশ। করোনা মহামারি সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দার কারণে ২০২০ সালে দেশটির বন্দরগুলোয় কার্গো হ্যান্ডলিং ১৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এর আগে কখনও দেশটির বন্দর কার্যক্রমে এত বড় পতন দেখা যায়নি।