সমুদ্রে জলদস্যুতা ২৮ বছরের সর্বনিম্নে

২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রে জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা ১৯৯৪ সালের পর সর্বনিম্নে নেমেছে। আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরোর (আইএমবি) সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইএমবি পাইরেসি রিপোর্টিং সেন্টার গত বছর জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতির মোট ১৩২টি ঘটনার খবর পেয়েছে। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৯৫টি। ২০১৯ সালে ছিল ১৬২টি।

গত কয়েক বছর জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল গিনি উপসাগরে দুষ্কৃতিকারীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়া। এছাড়া সিঙ্গাপুর প্রণালীতে জলদস্যুতা বেড়ে যাওয়াও অন্যতম কারণ ছিল।

আইএমবি জানিয়েছে, ২০২১ সালে মোট ১১৫টি জাহাজে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছে জলদস্যুরা। ১১টি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পাঁচটি জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একটি জাহাজ হাইজ্যাক করা হয়েছে। সার্বিকভাবে দুষ্কৃতির ঘটনা কমলেও গত বছর ৫৭ জন নাবিক অপহরণের শিকার হয়েছেন। আরও আটজনকে জিম্মি করা হয় এবং একজনকে হত্যা করে দুষ্কৃতিকারীরা।

আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে বাল্কার (৪৭টি)। এছাড়া কনটেইনার জাহাজ ও ট্যাংকারে সমান প্রায় ৩০টি করে হামলার খবর পেয়েছে আইএমবি।

গত বছর জলদস্যুতা সার্বিকভাবে হ্রাস পাওয়ার বড় কারণ হলো গিনি উপসাগরে দুষ্কৃতিকারীদের উৎপাত কমে যাওয়া। অক্টোবর/নভেম্বর থেকে মার্চ/এপ্রিল- সাধারণত বছরের এই সময়টায় গিনি উপসাগরে জলদস্যুতার ঘটনা বেড়ে যায়। তবে জলদস্যুতা প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন কর্মসূচি ও অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ফোর্সের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কারণে গত বছর সেখানে জলদস্যুদের আক্রমণের প্রবণতা কিছুটা কমেছিল।

গিনি উপসাগরে জলদস্যুতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত মে মাসে বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিলের (বিমকো) উদ্যোগে গ্রহণ করা হয় গালফ অব গিনি ডিক্লারেশন অন সাপ্রেশন অব পাইরেসি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী অংশীজনের সংখ্যা বাড়ছে।

সমুদ্র নিরাপত্তায় বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে নাইজেরিয়া। গত জুনে নাইজেরিয়ার সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা নিমাসার অধীনে যাত্রা হয়েছে ডিপ ব্লু প্রজেক্টের। এই প্রকল্পের অধীনে দুটি স্পেশাল মিশন প্যাট্রল বোট, তিনটি স্পেশাল মিশন হেলিকপ্টার, দুটি লাইট মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট ও চারটি আনম্যানড এয়ার ভেসেল যুক্ত হয়েছে সমুদ্র নজরদারিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here