উষ্ণায়ন প্রতিরোধে কয়লানির্ভরতা থেকে সরে আসার কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ব্যবহার। স্বাভাবিকভাবে পণ্যটির বৈশ্বিক বাণিজ্যও ক্রমাগত বাড়ছে। এই প্রবণতা চলতি বছরও অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ ২০২২ সালেও এলএনজির বৈশ্বিক বাণিজ্য বাড়বে। তবে প্রবৃদ্ধির এই গতি ২০২১ সালের তুলনায় কিছুটা শ্লথ হতে পারে বলে ধারণা করছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর এশিয়ায় শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ফলে এলএনজির বাণিজ্যে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪ শতাংশে নামতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে এশিয়ায় এলএনজির চাহিদা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে চলতি বছর চাহিদায় কিছুটা মন্দা যাবে। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় পণ্যটির আমদানি কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ।
২০২০ সালে এলএনজির বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি ৬০ লাখ টন। আইইএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২১ সাল শেষে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ৬ শতাংশ বেড়ে ৩৭ কোটি ৭০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। তবে চলতি বছর প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে এলএনজি বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩৯ কোটি ২০ লাখ টন।
প্রতিবেদনে আইইএ বলছে, চলতি বছর এলএনজি আমদানিতে নিট প্রবৃদ্ধির পুরোটাই আসবে এশিয়া থেকে। এ সময় চীন জ্বালানি পণ্যটির সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশে পরিণত হবে। যদিও দেশটির আমদানি প্রবৃদ্ধির হার কমে ৯ শতাংশে নামতে পারে। কারণ তারা রাশিয়া থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি বাড়াচ্ছে।
গত বছর ভারতের এলএনজি আমদানি সাময়িকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে চলতি বছর তা ২০২০ সালের পর্যায়ে ফিরতে পারে এবং আমদানিতে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে বলে আইইএ ধারণা করছে।
এশিয়ার দেশগুলোয় এলএনজির চাহিদা মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। চলতি বছর এশিয়ায় এলএনজির প্রবাহ ২৭ শতাংশ বাড়তে পারে। ইউরোপের বাজারেও এলএনজি আমদানিতে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকবে। তবে আমদানি ২০১৯-২১ সালের তুলনায় বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আইইএ।
আইইএ বলছে, চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যে ১১ শতাংশ এলএনজি আমদানি প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা রয়েছে। নতুন আমদানিকারক দেশ ঘানা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সেনেগালে চাহিদা বাড়ায় আফ্রিকা মহাদেশেও আমদানি ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এলএনজি রফতানি প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেবে উত্তর আমেরিকা। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানিটির উৎপাদন বাড়বে ১৬ শতাংশ।