অস্ট্রেলিয়া থেকে তরলীকৃত হাইড্রোজেনের বড় একটি চালান নিয়ে জাপানে ফিরেছে বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন ক্যারিয়ার সুইসো ফ্রন্টিয়ার। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে জাহাজটি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। বেশি পরিমাণে তরলীকৃত হাইড্রোজেনের আন্তর্জাতিক চালান এটাই প্রথম।
তরলীকৃত হাইড্রোজেন নিয়ে প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহের দীর্ঘ যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করার বিশেষ উদ্দেশ্য থেকেই সুইসো ফ্রন্টিয়ারকে নির্মাণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী প্রজন্মের হাইড্রোজেন ক্যারিয়ার নির্মাণ করা হবে। জাহাজটি যে হাইড্রোজেন পরিবহন করেছে, তা সংগ্রহ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় ব্রাউন কোল থেকে।
৩৮০ ফুট দীর্ঘ জাহাজটি নির্মাণ করেছে কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। হাইড্রোজেন এনার্জি সাপ্লাই চেইন (এইচইএসসি) পাইলট প্রকল্পের অধীনে জাহাজটি পরিচালনা করা হচ্ছে। কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ছাড়াও ৫০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের (৩৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার) এই পাইলট প্রকল্পে অংশীদার হিসেবে রয়েছে ইলেকট্রিক পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, ইওয়াতানি করপোরেশন, মারুবেনি করপোরেশন, এজিএল এনার্জি ও সুমিতোমো করপোরেশন। প্রকল্পটির জাপানি অংশে আরও যুক্ত রয়েছে শেল, ইনিওস করপোরেশন ও কে-লাইন।
বিশ্বজুড়ে শিপিং খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জ্বালানি রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে হাইড্রোজেনকে অন্যতম বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই জ্বালানি রূপান্তরের পেছনে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে হাইড্রোজেন পরিবহনের পদ্ধতিগত জটিলতা। এই কাজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাপমাত্রা মাইনাস ২৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বজায় রাখা। এটি হলো সর্বোচ্চ শীতলতম তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রায় পরিবহন করলে হাইড্রোজেন তরল অবস্থায় থাকবে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকার নির্মাণকারীদের তালিকায় প্রথম সারিতে থাকা কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এখন হাইড্রোজেন ট্যাংকার তৈরিতেও শীর্ষস্থানে যেতে চাইছে। এইচইএসসি প্রকল্প তাদের সেই প্রচেষ্টারই অংশ।