স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বের হওয়ার পরও ভারতের বাজারে পণ্যের শুল্ক মুক্ত প্রবেশ সুবিধা অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লিতে ৪ মার্চ অনুষ্ঠেয় দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে নতুন এজেন্ডা হিসেবে যা অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২ ও ৩ মার্চ সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা হবে।
২০২৬ সালে এলডিসি শ্রেণি থেকে বাংলাদেশের বের হওয়ার কথা রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও যাতে ১২ বছর পর্যন্ত অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা পায়, সে জন্য ডব্লিউটিওতে প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ; যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী জুনে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এবারের সচিব পর্যায়ের সভায় ২০২০ সালে ভারতের জারি করা নতুন শুল্ক আইনের কারণে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সমাধান চাইবে বাংলাদেশ। ভারতের ওপর দিয়ে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বিষয়ে গুরুত্ব দেবে। তবে এ বিষয়ে ৮ মার্চ অনুষ্ঠেয় বিবিআইএনের বৈঠকে আরও বিস্তারিত আলোচনা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বাংলাদেশি পাটপণ্য ও ফ্লোট গ্লাসে ভারতের আরোপ করা অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চাইবে বাংলাদেশ।
২০২০ সালে নতুন কাস্টমস রুলস জারি করেছে ভারত, যার আওতায় সে দেশের কাস্টমস কর্মকর্তারা রুলস অব অরিজিন, মূল্য সংযোজনসহ রপ্তানিকারকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য চাইতে পারে। ভারতের এ নিয়মকে সাফটা চুক্তির বিরোধী উল্লেখ করে গত বছর ঢাকায় সচিব পর্যায়ের বৈঠকে তা কার্যকর না করতে অনুরোধ করেছিল ঢাকা।
এদিকে, করোনার সময় ভারত থেকে ট্রেনে পণ্য ও কাঁচামাল আমদানি শুরু হয়েছে। পণ্য বাংলাদেশে খালাস করার পর কনটেইনারগুলো ভারতে খালি ফেরত যায়। সেগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদন ছাড়াই যাতে খালি কনটেইনারে ভারতে পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে প্রস্তাব করবে বাংলাদেশ।
সিরাজগঞ্জে আইসিডি স্থাপন করতে চায় ভারত :ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও সচিব পর্যায়ের সভায় ভারতের এজেন্ডাগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এতে পণ্য-বাণিজ্যে রেল কনটেইনার সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন বলেছে, দুই দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে ২০২০ সালের জুলাই থেকে কনটেইনার ট্রেন সার্ভিস চলাচল করলেও বাংলাদেশে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে তা বাড়ছে না। হাইকমিশন জানিয়েছে, ভারত বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে একটি কনটেইনার হ্যান্ডলিং কেন্দ্র স্থাপন করতে আগ্রহী। যেখান থেকে আমদানি-রপ্তানির সব কনটেইনার ব্যবস্থাপনা করা হবে।