টম ক্রিয়েন

বিশ শতকের একেবারে প্রথমদিকে পরিচালিত তিনটি অ্যান্টার্কটিক অভিযানের সদস্য ছিলেন বিশ্বখ্যাত সমুদ্র অভিযাত্রী টম ক্রিয়েন। আয়ারল্যান্ডের গর্টাকুরাউনে ১৮৭৭ সালে জন্ম নেওয়া এ দুঃসাহসী নাবিক অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে পিতা-মাতাকে না বলেই নাম লেখান ব্রিটিশ রয়েল নেভিতে। ১৯০১ সালে নিউজিল্যান্ডে দায়িত্ব পালনের সময় রবার্ট ফ্যালকন স্কটের ১৯০১-১৯০৪ ডিসকভারি জাহাজের অ্যান্টার্কটিক এক্সপিডিশনে যোগ দেন। ১৯০২ সালের শীত মৌসুমে অ্যান্টার্কটিক প্যাক আইসে আটকে যায় ডিসকভারি। জাহাজসহ পুরো শীতকাল বরফে আটকে থাকার পর ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বরফ গলে আসার বদৌলতে ক্রিয়েনসহ বাকি নাবিকেরা মুক্তি পান।

১৯১০ সালে টেরা নোভা এক্সপিডিশনের জন্য আবারো ক্রিয়েনকে বেছে নেন স্কট। অভিযানের এক পর্যায়ে চরম প্রতিকূল অবস্থায় টানা ১৮ ঘণ্টা ট্রেকিং করে সঙ্গী লেফটেন্যান্ট ইভানসের জীবন বাঁচান ক্রিয়েন। অদম্য শারীরিক-মানসিক শক্তি এবং মানবিকতা প্রদর্শনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সম্মানজনক অ্যালবার্ট মেডালে ভূষিত করে ব্রিটিশ সরকার।

১৯১৪ সালে তৃতীয় এবং শেষবারের অ্যান্টার্কটিক অভিযানে টম ক্রিয়েনদের জাহাজ এনডুরেন্সও বরফে আটকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বরফের চাপে চূর্ণ হয়ে যায়। এর আগেই ছোট কয়েকটি লাইফবোটে করে নাবিকেরা জীবন বাঁচান, দাঁড় টেনে উপস্থিত হন এলিফ্যান্ট আইল্যান্ডে। সেখান থেকে টম ক্রিয়েনসহ ছয়জন সাহায্যের আশায় জেমস কেয়ার্ডের লাইফবোটে বেরিয়ে পড়েন। তাদের অসীম বীরত্বপূর্ণ অভিযানের ফলেই এলিফ্যান্ট আইল্যান্ডে আটকে পড়া বাকি ২২ নাবিককে পরবর্তীতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

১৯৩৮ সালে অ্যাপেনডিক্স ফেটে মৃত্যু হয় এই অসম সাহসী নৌ-অভিযাত্রীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here