বন্যা, খরা, দাবানল, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা প্রতিটি দেশের কাছেই চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। এসব দুর্যোগ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি করে। এই ক্ষতের উপশমে বড় অংকের অর্থ বেরিয়ে যায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। যুক্তরাষ্ট্রও এই ক্ষয়ক্ষতির আঁচ থেকে নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চলতি শতকের শেষ নাগাদ প্রতি বছর দেশটিকে হারাতে হবে ২ লাখ কোটি ডলার, যা তাদের বর্তমান কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে হোয়াইট হাউজের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট অ্যাসেসমেন্ট (ওএমবি)। তাদের বিশ্লেষণ বলছে, উপকূলীয় দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ, বন্যা বীমা, ফসল বীমা, স্বাস্থ্য বীমা, দাবানল দমন ইত্যাদি খাতে মার্কিন সরকারকে প্রতি বছর কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হতে পারে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে রেকর্ড দাবদাহ ও খরা দুটি মারাত্মক দাবানলের জন্ম দেয়। দাবানলটি ক্যালিফোর্নিয়া ও ওরেগনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে এত বড় দাবানল এর আগে কখনও দেখা যায়নি।
ওএমবি জানিয়েছে, দাবানলের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় তহবিলের অগ্নি নির্বাপণবাবদ ব্যয় বছরে ১৫৫ কোটি ডলার থেকে ৯৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে। সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বাড়ায় কেন্দ্রীয় সম্পদের আওতাভুক্ত প্রায় ১২ হাজার ২০০ অবকাঠামো প্লাবিত হতে পারে। এই ক্ষত সারাতে ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জোরদার পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ইউক্রেন-রাশিয়া চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা পদক্ষেপের গতি শ্লথ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বাইডেনকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।
সম্প্রতি বাইডেনের ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’ শীর্ষক বিলটিও সিনেটে বিরোধিতার মুখে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিকে সহায়তার জন্য বিলটিতে কয়েকশ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে।
বাইডেন প্রশাসন মার্চের শেষের দিকে ২০২৩ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারের বাজেট প্রস্তাব করেছে। এই বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২১ অর্থবছরের তুলনায় তা প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।


