রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনায় পতনমুখী বিশ্ববাণিজ্য

কিল ইনস্টিটিউটের গবেষণা প্রতিবেদন

ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযানের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাণিজ্যে। দুই দেশের মধ্যকার এই উত্তেজনার প্রভাবে সাপ্লাই চেইনে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তার কারণে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর বাণিজ্যে বড়সড় ধস নেমেছে। জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর এক মাসের মাথায় বিশ্ববাণিজ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে, ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বিশ্ববাণিজ্যের আকার কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ।

বিশ্বের ৭৫টি দেশের ৫০০টি বন্দরের ট্রাফিক ডেটা নিয়ে তৈরি হয় কিল ট্রেড ইন্ডিকেটর। এর সর্বশেষ হালনাগাদে দেখা গেছে রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান উত্তেজনা প্রায় সব দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনার জেরে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। ফলে দেশটির বন্দরগুলো দিয়ে কনটেইনার পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কিল ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট। আলোচ্য এক মাসে রাশিয়ার আমদানি কমেছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ আর রপ্তানি কমেছে ৫ শতাংশ।

জাহাজশূন্য রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গ বন্দর

এই উত্তেজনার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের বাণিজ্যে। রুশ অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ওডেসার পোর্ট কল বন্ধ রেখেছে বড় বড় কনটেইনার জাহাজগুলো। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি।

রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যেও এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে। আলোচ্য সময়ে ইইউর রপ্তানি ও আমদানি কমেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬ ও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জার্মানির রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ আর আমদানি ৩ দশমিক ২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে রপ্তানি ও আমদানিতে পতনের হার যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ও শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।

সেনা অভিযানের নিন্দা প্রকাশে অস্বীকৃতি জানানো চীনের বাণিজ্যের ওপর অবশ্য খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। এক মাসে দেশটির রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও আমদানি বেড়েছে একই হারে।

কিল ইনস্টিটিউটের এই প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েকদিন আগে চলতি বছরের জন্য বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। তারা বলছে, ২০২২ সালে এই বাণিজ্যে ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হতে পারে। এর আগে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here