নিষেধাজ্ঞার প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল রপ্তানি চাঙ্গা

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমাদের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে এসেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে দেশটির ব্যাংকিং ও শিপিং খাত। পশ্চিমা কোম্পানিগুলোও নিজেদের মতো করে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে রুশ জ্বালানি খাতের সঙ্গে। রাশিয়ার জলসীমার গায়ে জুটেছে যুদ্ধকালীন ঝুঁকি পরিস্থিতির তকমা।

এ অবস্থায় দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানিতে ধস নামবে বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু সব আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে রাশিয়ার লোডিং টার্মিনালগুলো থেকে তেলের সরবরাহ বিষ্ময়করভাবে চাঙ্গা রয়েছে। হয়তো গন্তব্য পাল্টেছে, তবে রপ্তানির পরিমাণে পরিবর্তন আসেনি। রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানিকারকরা তেমনই সরবরাহ করে যাচ্ছে, যেমনটি তারা অভিযান শুরুর আগে করেছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল রপ্তানি ছিল প্রতিদিন গড়ে ৪০ লাখ ব্যারেল। চলতি বছর সাপ্তাহিক হিসাবে এটাই রাশিয়ার সর্বোচ্চ তেল রপ্তানি। অবশ্য এসব তেলের গন্তব্য কোথায়, তার বেশিরভাগ তথ্যই প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, এশিয়া অভিমুখী ট্যাংকারের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।

সাধারণত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল যায় ইউরোপীয় বাজারে। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন সেই রুট বদলেছে। রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে লোড হয়ে ট্যাংকারগুলো উত্তামাশা অন্তরীপ হয়ে এশিয়ার পথে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে।

বাজার সূত্র অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলার কমে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানের উচ্চমূল্যের বাজারে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর জন্য এটি রীতিমতো লোভনীয় এক সুযোগ। তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেও। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। কেপলারের উপাত্ত বলছে, মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে দেশটির পরিশোধনকারীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here