
রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য বোঝাই জাহাজ সাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অনুমতি মিললেই মোট ৬ লাখ টন শস্য নিয়ে রওনা হবে ১৭টি জাহাজ। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বিবিসি।
কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী যে তিনটি ইউক্রেনীয় বন্দর খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে, কর্নোমর্স্ক তার একটি। ওডেসার দক্ষিণাংশে অবস্থিত এই বন্দর পরিদর্শনে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানিতে এখন কেবল একটা পদক্ষেপই বাকি। জাহাজগুলো নিরাপদে কৃষ্ণ সাগর পাড়ি দিতে পারবে- এমন সবুজ সংকেত পেলেই সেগুলো বন্দর ছেড়ে যাবে।
জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় খাদ্যশস্য রপ্তানির সুযোগ দিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের এক সপ্তাহের মাথায় কর্নোমর্স্ক পরিদর্শনে গেলেন জেলেনস্কি। এর আগে তিনি কৃষ্ণ সাগরের তীরে তুরস্কে নিবন্ধিত জাহাজ পোলারনেটের সামনে শিল্পোন্নত জি সেভেন গ্রুপভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সরেজমিন কর্নোমর্স্কে দেখা যায়, সেখানে গত এক সপ্তাহ ধরেই জাহাজে খাদ্যশস্য বোঝাইয়ের কাজ চলছে। একেকটি জাহাজে বোঝাই শেষ হওয়ার পর টাগবোটগুলো সেটিকে সরিয়ে অন্য খালি জাহাজকে ডকে ভেড়াচ্ছে।
রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ইউক্রেনের বন্দরগুলো। দেশটি থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে সারা বিশ্বে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের মূল্যও বেড়ে গেছে। এমনই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে গত ২২ জুলাই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যে কাজে মধ্যস্থতা করেছে জাতিসংঘ ও তুরস্ক। ইস্তাম্বুলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে তাদের অবরোধ শিথিল করবে, যেন ইউক্রেন থেকে জাহাজে করে খাদ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়। তুরস্ক বলছে, এই চুক্তির ফলে শুধু ইউক্রেন নয়, বরং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রাশিয়ার খাদ্য রপ্তানিও সহজ হবে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক গম সরবরাহে রাশিয়া ও ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল এই দুই দেশের খাদ্যশস্য রপ্তানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।