বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গত বছর অন্যতম উদ্বেগের বিষয় ছিল সবররাহ ব্যবস্থার সংকট। করোনা প্রতিরোধে চীনে লকডাউনের কঠোরতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে চলতি বছরও এই সংকট অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের এই নাজুক অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে, এমনকি আরও খারাপ হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কিউআইএমএর জরিপ অনুসারে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা অপরিবর্তিত থাকতে পারে কিংবা আরও খারাপ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন শঙ্কা জানানো প্রতিষ্ঠানের হার ৮১ শতাংশ এবং ইউরোপে ৮০ শতাংশ।
জরিপে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জ হলো- উৎপাদন ও সরবরাহের সময়সূচি ঠিক রাখা, ভোক্তা চাহিদা স্থিতিশীল থাকা এবং পর্যাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা অব্যাহত রাখা।
নতুন করে করোনার প্রকোপ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের আরোপিত লকডাউনের কারণে প্রায় দুই মাস কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছিল বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর সাংহাইয়ে। এই বন্দরের চাপ গিয়ে পড়েছিল চীনের অন্যান্য বন্দরে, যা সামলাতে গিয়ে তাদের হিমসিম খেতে হরেছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ বাণিজ্যিক হাবগুলোতেও বার বার লকডাউনের বিধিনিষেধ নেমে আসার কারণে শ্লথ হয়েছে সরবরাহের গতি। এছাড়া পণ্যের মূল্য ও শ্রমের ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের উচ্চমূল্য ও ঘাটতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে সাপ্লাই চেইনের ওপর।