জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের খানিকটা পেছনে ফেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় আরও কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কোরীয় সরকার। এই লক্ষ্যে জাহাজনির্মাণ খাতে নতুন করে কোনো প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায় কিনা, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে তারা।
দক্ষিণ কোরিয়ার তিন শীর্ষ জাহাজনির্মাতা কোরিয়া শিপবিল্ডিং অ্যান্ড অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং, দাইয়ু শিপবিল্ডিং অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধানরা গত শুক্রবার দেশটির শিল্প, বাণিজ্য ও জ্বালানি মন্ত্রী লি চ্যাং-ইয়াংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জাহাজনির্মাণ খাতকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা করেন।
কোরিয়ার জাহাজনির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট দীর্ঘদিনের। কোম্পানিগুলো বারবারই বলে আসছে যে, দক্ষ শ্রমিক পেতে তাদের বেশ বেগ পোহাতে হয়। এর কারণে কার্যাদেশ অনুযায়ী জাহাজ নির্মাণ অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না তাদের জন্য। এমনকি এই শ্রমিক সংকটের কারণে গত দশকের মাঝামাঝিতে কোরিয়ার জাহাজনির্মাণ শিল্পের গতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়েছিল। শুক্রবারের আলোচনায় শ্রমিক সংকট নিরসনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ক্লার্কসন রিসার্চের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাহাজ নির্মাণের মোট কার্যাদেশের শতাংশীয় হিসাবে জুলাই মাসেও চীনকে পেছনে ফেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ নিয়ে টানা তিন মাসে চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকল তারা। জুলাইয়ে নতুন করে মোট ১১ লাখ ৯০ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ এসেছে বিশ্বজুড়ে। এর ৫৫ শতাংশই পেয়েছে কোরিয়া। সংখ্যার ভিত্তিতে গত মাসে মোট ৭০টি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ মিলেছে, যার মধ্যে ১৯টি পেয়েছে কোরীয় শিপইয়ার্ডগুলো।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দক্ষিণ কোরিয়া মোট ১ কোটি ১০ লাখ টন ধারণক্ষমতার ২০৪টি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে। বাজার হিস্যায় তা ৪৭ শতাংশ। অন্যদিকে চীনের শিপইয়ার্ডগুলোর পাওয়া কার্যাদেশের পরিমাণ ১ কোটি টনের কিছু বেশি, সংখ্যার বিচারে যা ৩৮৩টি জাহাজ।
আগের কার্যাদেশ মিলিয়ে এখন কোরিয়ার হাতে মোট অর্ডার রয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ টন বা ৭১৭টি জাহাজের। শিল্প, বাণিজ্য ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোরীয় শিপইয়ার্ডগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজ সরবরাহ করতে না পারার ঘটনা বাড়ছে। গত টানা ১১ মাস এই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে এই সংখ্যা বেড়েছে এক-চতুর্থাংশের বেশি।