২০৫০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমানোর যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও), তা অর্জন করতে হলে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত মূলধনী বিনিয়োগ করতে হতে পারে সমুদ্র পরিবহন খাতকে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেরিটাইম কনসাল্টেন্সি ফার্ম ইউএমএএসের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে এই হিসাব দেখানো হয়েছে।
সমুদ্র পরিবহন খাতে নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে জ্বালানি রূপান্তর, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহের বিষয়টিকে। ইউএমএএসের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ইন শিপিং’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্র পরিবহন খাতকে এই ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে ১ লাখ কোটি থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারের তহবিলের সংস্থান করতে হবে।
২০৫০ সাল নাগাদ আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহন খাতে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৮ সালের তুলনায় অর্ধেক মাত্রায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে আইএমও। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ প্রায় ১৪টি দেশ এর চেয়েও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তাদের লক্ষ্য ২০৫০ সাল নাগাদ শিপিং খাতকে পুরোপুরি নিঃসরণমুক্ত করা।
আইএমওর লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩০ সাল নাগাদ আন্তর্জাতিক বহরের অন্তত ৫ শতাংশ জাহাজে স্কেলেবল জিরো এমিশন ফুয়েলের (এসজেডইএফ) ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে ইউএমএএস জানিয়েছে, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সরবরাহ, অর্থায়ন, নীতিনির্ধারণ, চাহিদা তৈরি ইত্যাদি বিষয়ে শিপিং খাত অনেকটাই এগিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সমুদ্র পরিবহন খাতে নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে জীবাষ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন, সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বাংকারিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে শিপিং খাতকে।