চট্টগ্রাম বন্দর ইতিমধ্যে রিজিওনাল শিপিং হাবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। প্রতিমন্ত্রী রোববার ঢাকায় ‘চট্টগ্রাম বন্দর কিভাবে রিজিওনাল শিপিং হাবে পরিণত হবে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ মন্তব্য করেন। ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ বৈঠকের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনালের ‘মাল্টিপারপাস টার্মিনাল’ চট্টগ্রাম বন্দর নিজে পরিচালনা করবে। এক্ষেত্রে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেছে। বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে সরকার অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে।
তিনি বলেন, ১৪ বছরে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন বিষয়ে সরকার নজরদারি রাখছে। ডে বাই ডে সেগুলোর উন্নয়ন হচ্ছে। যন্ত্রপাতি ও ইয়ার্ডের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব বিজনেসম্যানদের জন্য পথ তৈরি করা। বিজনেসম্যানরা সে পথ ধরে এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেরিটাইম সেক্টরের উন্নয়নে ঝুঁকি নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছেন। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মেরিটাইম সেক্টরে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন চট্টগ্রাম বন্দর প্রাতিষ্ঠানিক বন্দর হিসেবে ১৩৫ বছর অতিক্রম করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে তৈরি হয়নি। ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। অনেক সমস্যার কথা বলা হচ্ছে। সেগুলো একদিনের সমস্যা না। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কি- সেটি বড় বিষয়। কাস্টমসের জবাবদিহিতা নাই; একথাটি ঠিক নয়। ডে বাই ডে আপগ্রেড করছি। সবকিছু অটোমেশন ও ডিজিটাল করা হচ্ছে। ডিজিটাল শব্দটি আওয়ামী লীগ সরকারই নিয়ে এসেছে। পৃথিবীর সবাইকে নিয়ে আমরা যুক্ত আছি। বিদেশি বিনিয়োগকে ভয় পেলে হবেনা। দেশপ্রেমিক সরকার ক্ষমতায় আছে। বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে এলে দেশের স্বার্থকে আগে দেখা হবে। কোন ক্ষতি হবেনা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ইস্ট-ওয়েস্টের মাঝখানে আছি। কক্সবাজার এয়ারপোর্ট রিজিওনাল হাবে পরিণত হবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর এমনিই রিজিওনাল হাব হয়ে যাবে। অলরেডি কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ তিনটি বন্দর আছে। লজিস্টিক্স বিষয়ে কিছু দুর্বলতা আছে। সেগুলো দূর করছি। সেজন্য অনেক ডেভেলাপমেন্টের প্রয়োজন। এজন্য বিদেশিদের সাথে কথা বলছি। কারিগরি ও দক্ষ লোকের অভাব দূর করতে কাজ করা হচ্ছে। কাস্টমসকে দক্ষ করা হচ্ছে। একটি বিরাট শক্তি চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার বসাতে দেয় না। বসালেও কিছুদিন পর নষ্ট হয়ে যায়। এ মানসিকতা চেঞ্জ করতে হবে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার সম্পাদক ইনাম আহমেদের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার খানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, সাবেক পর্ষদ সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কবির আহমেদ, বিকেএমইএয়ের নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম মজুমদার, সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আইনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশেদ খান মাহমুদ তিতুমীর, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী, সিসিসিআইয়ের পরিচালক অঞ্জন শেখর দাস এবং সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।